তৌফিক রুবেল, দাউদকান্দি : কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে দাউদকান্দি উপজেলা আমীর মনিরুজ্জামান বাহলুলকে। তিনি কুমিল্লা জেলা জামায়াতের মজলিসে শূরার একজন নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ছাত্রজীবন থেকেই একজন পরীক্ষিত ও সাহসী নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিত বাহলুল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা জেলা উত্তর ও দক্ষিণ-উভয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। কুমিল্লায় এমন নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত খুবই বিরল। তাই অনেকের ধারণা, বাহলুল কেবল একজন উপজেলা পর্যায়ের নেতা নন; কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সব যোগ্যতা তার ভেতর রয়েছে। জামায়াত যদি অন্যান্য দলের মতো বিস্তৃত কেন্দ্রীয় কমিটি করতো, বাহলুল সেখানে জায়গা করে নিতে পারতেন নিঃসন্দেহে।দাউদকান্দিতে ইসলামী আন্দোলনের যে গণজোয়ারের সূচনা হয়েছিল মাওলানা আবুল বাশার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর হাত ধরে, তারই ধারাবাহিকতা রক্ষায় সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন বাহলুল। একজন আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে তিনি দাওয়াতি কর্মকা-ে সবসময় সক্রিয় ছিলেন। তার আলোচনা সবসময় বাস্তবভিত্তিক, হৃদয়স্পর্শী এবং শিক্ষণীয় হতো যা তিনি নিজে দাওয়াতি মাঠে কাজ করতে গিয়ে অর্জন করেছেন।

বাহলুলের পাশে আছেন বর্তমান দাউদকান্দি উপজেলা সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান মনির। যিনি শিবিরের কর্মীদের মাঝে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে পরিচিত। এছাড়া আছেন ছাত্রশিবির কুমিল্লা পশ্চিমের সাবেক তিন জেলার সভাপতি মোঃ শাহজাহান তালুকদার, যিনি বর্তমানে দাউদকান্দি পৌরসভা সেক্রেটারি; দাউদকান্দি পৌরসভার যুব বিভাগের সেক্রেটারি তৌফিক রুবেল এবং কেন্দ্রীয় শিবিরের সহকারী সাহিত্য ও প্রকাশনা বিভাগে নিযুক্ত মোঃ জিসান মিয়া। এই শক্তিশালী নেতৃত্বের সমন্বয়ে জামায়াত এবার দাউদকান্দি-তিতাসে একটি সুসংগঠিত ও সম্ভাবনাময় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়াও বাহলুলের সহযোদ্ধা হিসেবে আরও রয়েছেন সাবেক কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক এবং বর্তমান যুব বিভাগের সভাপতি মিজানুর রহমান আরিফ, যিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের গাজীপুর মহানগরের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিতাস উপজেলায় বাহলুলের অন্যতম শক্তি হচ্ছেন আমীর ইঞ্জিনিয়ার শামীম সরকার এবং সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনÍদুজনই চিন্তাশীল, কৌশলী ও ভবিষ্যতবান নেতৃত্ব হিসেবে সুপরিচিত।

স্থানীয় পর্যায়ে নিবেদিতপ্রাণ একঝাঁক সংগঠক, নির্ভরযোগ্য ফান্ড সংগ্রাহক, এবং সাংগঠনিকভাবে পরিপক্ব কাঠামো জামায়াতকে এ আসনে ভালো ফলাফলের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ইতিমধ্যেই বাহলুলের নাম দাউদকান্দির প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে গেছে। মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে “জামায়াতের প্রার্থী আছেন, আর তার নাম বাহলুল।”যদিও এবারের নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন অথবা ওনার ছেলে ড.মারুফ, তবুও বাহলুল তার সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত। বাহলুল কেবল একজন নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিক নন; তিনি একজন টার্গেটভিত্তিক, পরিকল্পনামাফিক, সংগঠক-প্রশিক্ষক যিনি দীর্ঘমেয়াদে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।

মনিরুজ্জামান বাহলুল এর কপালে জয়-পরাজয় দুটোই হতে পারে এবার কিন্তু দাউদকান্দি-তিতাসের ইসলামী আন্দোলনের মাঠে তিনি যে বীজ বপন করেছেন, সেটি ভবিষ্যতে ফল দেবে এমনটাই বিশ্বাস করেন তার অনুসারীরা। বাহলুলকে সাধারণ উপজেলা আমির হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তিনি দাউদকান্দি জামায়াতের ‘চেঞ্জমেকার’। তার নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও সাহসিকতায় ইসলামী আন্দোলনের নতুন এক অধ্যায় শুরু হচ্ছে যার ভিত রচনা হচ্ছে আজ, ফলাফল মিলবে আগামীতে। মনিরুজ্জামান বাহলুলের নেতৃত্বে দাউদকান্দি-তিতাসে জামায়াত সুসংগঠিতভাবে সামনে এগোচ্ছে। নির্বাচনী ফলাফল যাই হোক, এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলছেন।