বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এবছর কোরবানির জন্য প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিভিন্ন খামারি ও স্থানীয় লোকজন ব্যক্তি উদ্যোগে এইসব পশু প্রস্তুত করেছে বলে প্রাণিসম্পদ বাঁশখালী উপজেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে।

আসন্ন কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্যে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় বসা হাট-বাজারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সড়কে যানজট নিরসন করতে কাজ করছে প্রশাসন।

২ জুন (সোমবার) বাঁশখালীর বাহারচড়া বশির উল্লাহ মিয়াজি বাজার, গ-ামারা বাজার, শীলকূপের টাইম বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি কোরবানির পশুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয় জাতের গরু, মহিষ, ছাগলসহ কোরবানি পশুর জমজমাট হয়ে উঠেছে কোরবানির পশুর বাজার।

বাজার পরিদর্শনকালে মো. শের আলী, আব্দুল মজিদ, মো. হাসান, জমির উদ্দিন, মো. ফোরকান, আহমদ হোসেন, নজির আহমেদ, মো. হারুনসহ বেশ গরুর মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত বছরের তুলনায় এবছর বেচা-কেনা খুবই কম। এখনও পর্যন্ত কোরবানির আমেজ দেখা যাচ্ছেনা। এরইমধ্যে টানা ৩-৪ দিনের বৃষ্টির কারণে মানুষ বাজার আসতে পারছেনা, যারা বাজারে আসতে শুরু করেছে তাদের বেশিরভাগ লোক শুধু দাম মূলামুলি করছে। বিক্রেতাদের চাহিদার অর্ধেকেরও কম দামে মুলাচ্ছে ক্রেতারা। কুরা,ভূষিসহ গোখাদ্যের দাম অতিরিক্ত হওয়ার কারণে কম দামে কোরবানির পশু ছাড়তে পারছেনা বিক্রেতারা।

অপরদিকে, মো. আবুল কাশেম, আবু ছালেক, জয়নাল আবেদীন, ইসমাইল, হারুনুর রশিদ, আহমদ হোসেন চৌধুরী, কামরুল হাসান, ফরিদ আহমদসহ বেশ কয়েকজন ক্রেতারা বলেন, গরু, মহিষের দাম বলার কারণে বিপাকে পড়েছে ক্রেতারা। এমনিতেই মানুষ অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। এরইমধ্যে বিক্রেতারা কোরবানির পশুর দাম বেশি চাওয়ার কারণে পছন্দের গরু-মহিষ কিনতে পারছেনা ক্রেতারা। বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ১৫৭টি মোটাতাজাকরণ খামারসহ ছোট-বড় মোট ২০৫টি খামারে ৪৮ হাজার ৫৩৬টি বিভিন্ন ধরনের পশু আসন্ন কোরবানির প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও ব্যক্তি উদ্যোগে আরো অধিক পশু লালন-পালন করা হয়েছে। বাঁশখালীতে এবছর কোরবানির চাহিদার তুলনায় আরও অতিরিক্ত প্রস্তুত রয়েছে কোরবানির পশু।