জৈন্তাপুর (সিলেট) সংবাদদাতা : জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীতে অপরিকল্পিতভাবে বালু পাথর উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যন্ত্র মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের প্রতি দাবী জানিয়েছেন ¯’ানীয় বাসিন্দাগণ।
জানাগেছে, ইজারার কথা বলে অধিক মুনাফার আশায় পরিবেশবিধ্বংসী বোমা মেশিন দিয়ে বালু পাথর উত্তোলনে করা হ”েছ।
ইজারাদারদের সহযোগী হিসেবে যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা প্রশাসনের সহযোগীতায় বোমা মেশিন বসিয়ে বারকি শ্রমিকদের আয়ের উৎস বন্ধ করে দি”েছ এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ফেরিঘাট (বড়গাং) নৌকা বারকি শ্রমিক সমিতির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও প্রশাসন আমলে নি”েছনা বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখাযায়, অবৈধভাবে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেছে কথিত রেজাউল ইসলাম রাজা গংরা। তাদেরকে বৈধতা দিতে নদী খননের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে চুক্তিনামার ১১ নং কলামে রয়েছে বলে দাবি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এখানে ড্রেজার মেশিন চালানুর মতো কোন পরিবেশ তৈরি হয় নি। প্রকৃত ইজারাদার শনি সোহা এন্টার প্রাইজের স্বত্তবাধিকারী চন্দন তালুকদার তিনিও পরিবেশের বিপর্যয় এবং শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে বোমা মেশিন দিয়ে বালু পাথর উত্তোলনে দ্বিমত জানান।
বোমা মেশিন দিয়ে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গত (১১ আগস্ট) সহকারি কমিশনার (ভূমি) জৈন্তাপুর ও (৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে ২টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও তাতে কোন কাজ হ”েছ না। ভিটেমাটি হারানোর আশংকা করছেন নদী পাড়ের মানুষজন। বিনষ্ট হ”েছ ফসলী জমি, বর্ষা এলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে অসংখ্য ঘরবাড়ী।
এ ব্যাপারে বড়গাং নদীর ইজারাদার চন্দন তালুকদার সাথে আলাপ কালে তিনি বোমা মেশিন চালনায় সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন আমি এর পক্ষে নয়। কেউ যদি বোমা মেশিন দিয়ে বালু পাথর উত্তোলন করে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যব¯’া গ্রহনের অনুরোধ করছি। তিনি বারকি শ্রমিকদের নৌকা দিয়ে বালু সংগ্রহ করার সহযোগীতা করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান করেন।
কেউ যদি বোমা মেশিন দিয়ে বালু পাথর আহরণ করে থাকে তবে এ বিষয়ে আমার জানা নেই।
অপরদিকে অভিযোগকারি আব্দুস সামাদ বলেন, আমরা বারকি শ্রমিক আমাদের শ্রমের বিনিময়ে সংসার চলে। এখানে যদি বোমা মেশিন দিয়ে বালু পাথর উত্তোলন করা হয় তাহলে আমাদের রুজি রুটি বন্ধ হয়ে যাবে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে এটি প্রতিনিধি দল ঘটনা¯’লে আসলে সত্যতা দেখতে পেয়ে নৌকা দিয়ে বোমা মেশিনটি অপসারণ করে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি কালে একটি কল আসলে বোমা মেশিন যতা¯’ানে রেখে চলে যান। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বোমা মেশিনের বৈধতা আছে বলে আমাকে চলে যেতে বলেন।
অন্যদিকে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি বলেন, বড়গাং নদীতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা প্রদান করা হয়েছে। ইজারাদারের সাথে বোমা মেশিন দিয়ে বালু পাথর উত্তোলন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। নদীর গভীরতার জন্য এই নদীতে বোমা মেশিন চালাতে পারবে বলে তিনি জানান।