মোঃ ফিরোজ আহমেদ, পাইকগাছা : খুলনা জেলা শহর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরের উপজেলা পাইকগাছা। পাইকগাছা উপজেলাবাসীর পাশাপাশি কয়রা, আশাশুনিসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিনিধি ৪ থেকে ৫ শতাধিক রুগীর চাপে আউটডোরের সামনে জটলা লেগে থাকে। এনজিও থেকে পাওয়া জেনারেটর তেলের অভাবে বন্ধ থাকে। খাতা কলমে নামে দুটি সরকারি এম্বুলেন্স থাকলেও দীর্ঘদিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ডাক্তারসহ জনবল নিয়োগ দেওয়ার জন্য ৭টি আবেদন করলেও সাড়া মেলেনি আজও। বরং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ডাক্তাররা চলে গেছেন শহরে। ভয়াবহ চিকিৎসক ও জনবল সংকটে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম বিড়ম্বনা নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাঃ আব্দুল মজিদ বলেন, ডাক্তার সংকটের কারণে চিকিৎসা বঞ্চিত এই জনপদের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে ৫ লাখ মানুষের চোখের পানিতে ভেজা থাকে সবসময়। আশংকা জনক অবস্থায় সেবা নিতে আসা রোগীদের জেলা শহরের পাঠানো হলে অধিকাংশ রোগীর মৃত্যু হয় রাস্তায়। ৫০ শয্যা হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রুগীর উপস্থিত হয় এই হাসপাতালে। বেড সংকটের কারণে সিড়ি ও বারান্দায় অপেক্ষায় থাকলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে জনপদের মানুষ। দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে এক্সরে, আল্টাসোনোগ্রাম কার্য্যক্রম।
পৌরসভা জামায়াতের ৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি সোহেল আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ডাক্তার সংকট থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত জনপদের মানুষ।
সব মিলিয়ে চিকিৎসা ব্যাবস্থায় হযবরল অবস্থা চলছে। বিপুল সংখ্যক জনগণের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। চিকিৎসকদের কোন রেস্ট বা বিশ্রাম নেওয়ার অবকাশ নেই।
সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সুস্থতার বদলে তিক্ততা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে মানুষ। সেই সাথে দেখা যায় চিকিৎসক সংকটের ভয়াবহ চিত্র।
হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), পেডিয়াট্রিক্স, ইএনটি, অর্থো, সার্জারী, কার্ডিওলজি, অফথালমোলজি, স্ক্রীন এন্ড ভিডি সহ গুরুত্বপূর্ণ ৯টি পদে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক শূন্য রয়েছে। হাসপাতালের ২৩জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও শূণ্য আছে ১৭ জন। ৭ জন চিকিৎসক এর মধ্যে অন্য হাসপাতালে সংযুক্তিতে ৩ জন কর্মরত। আবার সেই ৭ জন চিকিৎসক এর মধ্যে অন্য হাসপাতালে সংযুক্তিতে ৩ জন কর্মরত। ইতোমধ্যে নতুন আরেকজনের আবার সংযুক্তিতে অর্ডার হয়েছে। যার ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দক্ষিণ অঞ্চলের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী ও ব্যস্ততম হাসপাতাল হচ্ছে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে মাত্র ৪ জন চিকিৎসক। যাহা ইনডোর, আউটডোর, নাইট ডিউটি, জরুরি বিভাগ সহ সকল ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা খুবই দুষ্কর।
এছাড়া, স্বাস্থ্য সহকারীর বেশির ভাগ পদ দীর্ঘদিন শূন্য সহ আল্ট্রাসনোলজিস্ট, মালী ও ড্রাইভার না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবাও পাচ্ছে না জনগণ। অত্র কমপ্লেক্সের যেখানে মোট কর্মকর্তা কর্মচারীর সংখ্যা ১৯৪ জন, সেখানে রয়েছে ১০১ জন। দীর্ঘদিন শূণ্য পদ রয়েছে ৯৩টি।
এছাড়াও সার্জারি যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, অপরিচ্ছন্নতা, ওয়ার্ডে পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত বাথরুম , খাবারে অনিয়ম সহ নানা সমস্যা রয়েছে হাসপাতালটিতে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবর রহমান জানান, হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল ও সরঞ্জাম বাড়ানো হয়নি। চিকিৎসক ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকট রয়েছে। জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জনবল বৃদ্ধির দাবি জানানো হলেও এখনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরী ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ দিতে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।