তৌফিক রুবেল, দাউদকান্দি (কুমিল্লা) : কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের বাজারের পাশে শ্রীরায়েরচর ব্রিজের নিচে কচুরিপানায় জমাট বাঁধা স্থানে যুবকেরা ভলিবল, ফুটবল খেলে প্রত্যেক দিন বিকেলে। আশেপাশের এলাকার সবাই বিকেল হলে ভীড় করে শ্রীরায়েরচর ব্রীজ এর উপর। উপর থেকে সবাই বাচ্চাদের খেলা দেখে। উৎসুক জনতাও এ বিষয়টাকে কেন্দ্র করে ব্রীজ এলাকাটাকে পর্যটন স্পট মনে করছেন। শ্রীরায়েরচর ব্রিজ থেকে কালিরবাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় এতটাই ঘন কচুরিপানার স্তর জমে আছে যে, এর ওপর দিয়ে মানুষ হেঁটে চলাচল করছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মতলব ধনাগোদার খেয়াঘাট, দুর্গাপুর, শ্রীরায়েরচর, বাংলাবাজার, রায়েরকান্দি, কালিরবাজার, নন্দলালপুর, বাইশপুর, গাজীপুর মোড়, সাহেববাজার, লক্ষ¥ীপুর, টরকী, মাছুয়াখাল, শাহপুর, নায়েরগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে পুরো নদীজুড়ে কচুরিপানার স্তূপ জমে আছে। এতে কয়েকটি বালুবাহী বাল্কহেড ১০-১২ দিন ধরে নদীর মধ্যে আটকে আছে।

অথচ একসময় এই ধনাগোদা নদী ছিল বৃহত্তর মতলবের নৌপথের একমাত্র ভরসা। এখান দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জগামী লঞ্চ ও পণ্যবাহী জাহাজ নিয়মিত চলাচল করত। কিন্তু গত পাঁচ-সাত বছরে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, অবৈধ দখল ও মাছ ধরার ঝাঁক ¯’াপনের কারণে নদীটি এখন মৃতপ্রায়।

বাল্কহেড শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, তারা প্রায় এক মাস ধরে শ্রীরায়েরচর ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে আটকা আছেন। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের দিন কাটছে নৌযানের ভেতরেই।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আমিরাবাদ লঞ্চঘাট থেকে কালিপুর পর্যন্ত ধনাগোদা নদীর প্রায় ৫৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কচুরিপানা জমে আছে। এর মধ্যে শ্রীরায়েরচর সেতু থেকে কালিরবাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার জায়গায় কচুরিপানার উপর দিয়েই হাঁটা যায়। তবে নদীর দুই পাড়ে অবৈধ মাছের ঘের আর ঝাঁক ¯’াপনের কারণে জোয়ার-ভাটার সময় কচুরিপানা সরতে পারে না। ফলে পুরো নদীজুড়ে জমে থেকে নৌযান চলাচলে মারাত্মক বাধা তৈরি করছে।

নদীটির খনন ও কচুরিপানা অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। শ্রীরায়েরচর বাজারের ব্যবসায়ী হাবিব বলেন, নদীর দুই পাশে অসংখ্য অবৈধ ঝাঁক থাকায় কচুরিপানা আটকে পড়ছে। এতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরীন আক্তার বলেন, বিষয়টি আমি এখনই জেনেছি। এরই মধ্যে নদী অধিদপ্তরের কাছে বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আমরা কাজ করবো। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কচুরিপানা অপসারণ ও অবৈধ ঝাঁক উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হবে আশা করি।