ভরা যৌবনে কপোতাক্ষ তার ভিটা-মাটি খেয়েছে। মাটি আঁকড়ে থাকতে না পারলেও সেই কপোতাক্ষই আজ তাদের ঠিকানা। মাটির স্পর্শ ছাড়াই ছোট্ট সুখের নীড়। যে নীড়ে সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বলে অবলীলায়। গর্বের রাজপ্রাসাদে সূর্যের আলোর অবাধ যাতায়াতে বাধা থাকলেও এখানে ভোরের ঠিকরে পড়া আলোয় ঘুম ভাঙ্গে এক প্রেমিক যুগলের।

পাইকগাছা উপজেলার ডিঙি নৌকায় বাধা সুখের নীড়ে বসবাস সুখেন-নমিতার কথা বলছি। এই বিশাল ধরিত্রীর কোনখানে ঠাঁই হয়নি। সব হারিয়ে প্রিয়তমা স্ত্রীকে সাথে নিয়ে নদীতে ভাসমান জীবন যাপন সুখেন বিশ্বাসের। সেঞ্চুরির পথে হাঁটছে সুখেন বিশ্বাস। সহধর্মিণীও একই পথে হাঁটছেন একটু দূরত্বে। অস্থিঃ চর্মসার এই মানুষ দু’টির বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল ডিঙি নৌকা। যে নৌকায় বসবাস, সেই নৌকাতেই ক্ষুধা মেটাবার একমাত্র অবলম্বন। সৃষ্টিকর্তাই তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। কপোতাক্ষের নোনা জলেই খাদ্য আহরনের একমাত্র পথ। প্রতিনিয়ত ক্ষুধার কামড়ে ক্ষতবিক্ষত সুখেন-নমিতার শরীর। তবুও কোন অভিযোগ নেই। নদের মাঝে ভিটামাটি, সহায় সম্বল হারিয়ে জীবন সঙ্গীকে সাথে নিয়ে সেই নদেই ডিঙি নৌকায় ভাসমান জীবন যাপন করে চলেছেন সুখেন বিশ্বাস। তার দেখা মেলা ভার। জীবন যুদ্ধে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে কপোতাক্ষের একূল থেকে ওকূলে, এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। জীবিকা নির্বাহে নদীতে মাছ ধরে চলছে দিন। সারা দিনের ক্লান্তি শেষে যে মাছ পান সেটা বিক্রি করে কোন ভাবে জীবন যাপন করে চলেছেন। বয়সের ভারে মাথা নুঁয়ে ঠেকেছে দুই হাঁটুতে। শরীরটাও আগের মত কথা শোনেনা। কোন দিন আধাপেটা, কোন কোন দিন উননে আগুন জ্বলে না। বেশির ভাগ সময় শুকনা খাবার, চিড়া, মুড়ি, বিস্কুটই ভরসা। বৈরী আবহাওয়া, ঝড়-ঝঞ্ঝা, তপ্ত রোদ তাদের শিষ্যত্ব বরণ করেছে। সুখেনের সর্বক্ষণ সাহস, অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন সহধর্মিণী নমিতা।