বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মসজিদে ছাত্রশিবিরের কুরআন প্রোগ্রামে ছাত্রদলের বাঁধা, পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় দুপক্ষের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড দারুল ইসলাহ মাদরাসা সংলগ্ন মসজিদে ছাত্রশিবিরের কুরআন শিক্ষা প্রোগ্রামে বাঁধা দেয়ার ফলে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠি-সোঁটা নিয়ে মোশারফ আলী বাজারে গিয়ে জড়ো হয়, এসময় জামায়াত-শিবিরকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে নানাভাবে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সহীহ কুরআন শিক্ষার জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির কর্তৃক মসজিদে আয়োজিত কুরআন শিক্ষা প্রোগ্রামে ছাত্রদল কর্মীরা প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আরও কয়েকজন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির জেলা পশ্চিমের সভাপতি আবদুর রহিম ও সেক্রেটারি ফরমানুর রহমান জাহিন এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানান। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ৪ দফা দাবিও উত্থাপন করা হয়। বাঁশখালী উত্তর শাখার সেক্রেটারী আজগর হোসাইন বলেন, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রদল নেতা তানভির হাইদার শাকিলের নেতৃত্বে ৪-৫ জন মসজিদে কুরআন শিক্ষা প্রোগ্রামে হামলা করে। পরে রাত ৮টার দিকে আরও ২০-৩০ জন দলীয় লোকজন লোহার রড, গাছের পাট্টা ও ইটপাটকেল নিয়ে পুনরায় হামলা চালায়। এতে মো. শওকত হোসাইন (২৭) গুরুতর আহত হয়, আহত শওকত চমেক হাসপাতালে ভর্তিহন। রাকিবসহ আরও কয়েকজন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে বাহারছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবাদুল হক বলেন, মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আগে থেকেই বলা ছিলো এখানে কোনো দলীয় প্রোগ্রাম করা যাবেনা। কিন্তু ছাত্রশিবির মসজিদে দলীয় প্রোগ্রাম করে।
বাঁশখালী থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) শুধাংশু শেখর হালদার বলেন, এঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।