কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার কুমারখালীর দরবেশপুর গ্রামের আবদুল হান্নান শিক্ষকতার পাশাপাশি দুই বিঘা জমিতে ‘মানিকগঞ্জের শাহি’ জাতের পেঁপে চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন, করেছেন বাজমাত। গাছের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ঝুলে আছে বিভিন্ন আকারের পেঁপে। পাইকাররা এসে নিয়ে যাচ্ছে।

শহরের শেরকান্দি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হান্নান। তিন বছর আগে ইউটিউব দেখে আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁপে চাষে উদ্বুদ্ধ হন। প্রথম বছর মাত্র ১০০টি গাছ দিয়ে তিনি পেঁপে চাষ শুরু করেন। সে বছর অল্প খরচ ও সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় তার আগ্রহ বাড়ে। চলতি বছর দুই বিঘা জমিতে ৮শটি ‘মানিকগঞ্জের শাহি‘ জাতের পেঁপের চারা রোপণ করেছেন। রোপণের দুই মাসের মাথায় গাছে ফুল ধরতে শুরু করে এবং তিন মাসের মাথায় পেঁপে বিক্রি শুরু করেন তিনি। পেঁপের ফলনে অনেক খুশি তিনি। আবদুল হান্নান জানান, চারা রোপণ ও পরিচর্যা বাবদ দুই বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। গত তিন মাসে তিনি ৩৫০ মণ পেঁপে পাইকারি দামে বিক্রি করেছেন। প্রতি কেজি পেঁপে ২৮ থেকে ৪৫ টাকা দরে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দুই মাসে আরও ২৫০ মণ পেঁপে পাবেন বলে ধারণা তার। সেগুলো বিক্রি কওে আরো প্রায় দুই লাখ টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এই শিক্ষক পেঁপে চাষের পাশাপাশি পেঁপের বীজও উৎপাদন করছেন। প্রতি কেজি বীজ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেন। এ বছর এখন পর্যন্ত ৭ কেজি বীজ বিক্রি করেছেন। আরও ১৫ থেকে ২০ কেজি বীজ বিক্রির প্রত্যাশা তার। পেঁপের বীজ বিক্রি করে প্রায় তিন লাখ টাকা পাবেন। পেঁপে ও পেঁপের বীজ বিক্রি করে সব মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকা পাবেন তিনি। খরচ বাদ দিলে প্রায় পুরোটাই লাভ থাকে বলে জানান।