ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : ফুলবাড়ী উপজেলায় দৌলতপুর ইউনিয়ন এর শিবপুর গ্রামের আজগার আলীর দায়েরকৃত মামলার ২ আসামী প্রকাশে ঘুরছে, দেখছে না আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আজগার আলীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল কাদের পিতা মৃত বাবর উদ্দিন আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সাবেক স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন সহ আরও আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের সহায়তায় এলাকায় অবৈধ ভাবে জমি দখল, মারপিট, মামলার হুমকি দিয়ে থাকত এবং বর্তমানেও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার পরও এরা এদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলমান রেখেছে।
২০২৩ ইং একই গ্রামের মো: তাজুল ইসলাম, বয়স ৩৪ বছর এর ছাগল কাদেরের ক্ষেতে ঢুকার কারনে তাকে কাদের ও তার বড় ভাই আজিজার ও তাদের ছেলেরা মিলে বেধম মারপিট করেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের প্রভাবে তারা থানায় মামলা করতে গিয়েও পারেনি।
২০২৪ সালের জুন মাসের শেষের দিকে একই গ্রামের মো: মাসুদ নামের এক যুবককে তার ক্ষেত থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পার্শ্ববর্তী এক ইউনিয়ন এ তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে কাদের ও তার দুই ছেলে সেকেন্দার (৩৪) বছর ও এস্কেন্দার (৩২) বছর, তার ভাই আজিজার ও তার দুই ছেলে সাদ্দাম বয়স ৩৪বছর ও সালাম বয়স ৩২ বছর তাকে নির্মমভাবে পিটায়। সে কয়েকদিন হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিল। ছেলের এই অবস্থা তার বাবা দেখে সহ্য করতে না পেরে স্ট্রোক করে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করে। পতিত স্বৈরাচার এর দোসরদের জন্য থানা তাদের মামলা পর্যন্ত নেয়নি। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি এক রাইস মিল থেকে পার্শ্ববর্তী হড়হড়িয়া গ্রামের বাচ্চু মিয়া, পিতা মৃত সিরাজ এর চালের বস্তা চুরি করে নিয়ে আসে। ঐ লোক চালের বস্তা খুঁজতে খুঁজতে কাদেরের বাড়িতে আসে। চালের বস্তা চিহ্নিত করে ফেরত চাইলে তাকে স্ত্রী ও ছেলে মেয়েসহ মেরে রক্তাক্ত করে। এই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হলে সে স্থানীয় বাজারে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে একই গ্রামের নীরিহ কৃষক মো: মজির উদ্দিন বয়স ৬৫ বছর, তার বাড়ির জমি দখল করতে যায়। মজির উদ্দিন কে নিজের জমিতে বাড়ি করতে দেয়না। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন চাপ প্রয়োগ করলে সে সেখান থেকে পিছু হটে।
গত ১৭ বছরে তার এরকম হাজারো অপরাধের গল্প স্থানীয় লোকজনের মুখে মুখে প্রচলিত আছে। তাকে সবাই শিবপুরের ফেরাউন বলে জানে। কাদের ও তার দুই ভাই হাছেন এবং আজিজার এবং তাদের ছেলেরা, আইয়ব আলী, গোলজার, মহাসিন মিলে শিবপুর গ্রামে একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তাকে এসব কাজে উপজেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা সরাসরি সহযোগিতা করে আসছিল। ৫ ই আগস্টের পটপরিবর্তন হওয়ায় সে ফুলবাড়ীর জনৈক নেতার ছত্রছায়ায় নতুন ভাবে বেপরোয়া হয়ে জমি দখলের মহোতসবে নেমে পড়েছে।
সর্বশেষ গত ০৩/০৭/২০২৫ তারিখে আব্দুল কাদের স্থানীয় কৃষক মো: আজগার আলী (৪৮) এর বাড়ী দখল করতে গিয়ে লাঠিশোটার আঘাতে আজগার আলীর স্ত্রী মোছাঃ মহসিনা বেগম মারাত্বকভাবে আহত হন। ফুলবাড়ী উপজেলার দৌলতপুর ইউপির শিবপুর গ্রামের মৃত্যু মহির উদ্দীন এর পুত্র মোঃ আজগর আলীর গত ০৬/০৭/২০২৭ ইং তারিখে ফুলবাড়ী থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায় যে, আজগার আলী খয়েরবাড়ী মৌজার দাগনং-এসএ ১১০৪, বিএস-১৩০১ জমির পরিমান-২০.৫ শতক জমি ১৫ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছে। উক্ত জমির মালিক আজগর আলী। উক্ত জমিতে আজগার আলী বাড়ী নির্মাণ কাজ শুরু করলে একই গ্রামের বাসিন্দা মৃত বাবর উদ্দীনের পুত্র কাদের আলী গত ০৩/০৭/২০২৫ইং তারিখে সন্ধ্যায় ২০ থেকে ২৫জন ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে গিয়ে আজগার আলীর দখল করার চেষ্ঠা করে। এসময় আজগার আলী কে মোঃ কাদের মোল্লার পুত্র মোঃ ছেকেন্দার আলী (৩৫), মোঃ তোফাজ্জাল (৫০), মোঃ আইয়ুব আলী (৪৬) বাঁশের লাঠিশোটা দিয়ে বেধম মারপিট করতে থাকে আজগর আলীকে এ সময় তার স্ত্রী মোছাঃ মহসিনা বেগম স্বামীকে বাঁচাতে গেলে মোঃ ছেকেন্দার আলী ধারালো অস্ত্র দ্বারা মাথায় আঘাত করে। এ সময় আজগর আলীর স্ত্রী মহছিনা বেগম বাঁচার জন্য চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ঐ দিন সন্ধ্যায় উদ্ধার করে ফুলবাড়ী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। কাদের গংরা আজগার আলীর স্ত্রীকে মারপিটের সময় টানা হেচড়া করে শীলতা হানী করেন। এ ঘটনায় আজগার আলী ফুলবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলে ফুলবাড়ী থানার পুলিশ মামলা নিতে গড়িমশি করে। এছাড়াও প্রতিপক্ষ কাদের মোল্লার মামলাটি ফুলবাড়ী থানার পুলিশ আগে গ্রহণ করেন। সেই মামলায় আজগার আলী সহ ২০ জনকে আসামী করা হয়েছে। থানায় বারংবার ধরনা দিয়ে অবশেষে ৪ দিন পর আজগার আলীর মামলাটি গ্রহণ করেন। আজগার আলী বাদী হয়ে ০৮ জনকে আসামী করে ফুলবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং-২৬, তারিখ: ০৬/০৭/২০২৫ইং। কিন্তু আব্দুল কাদের ও তার ছেলের নামে পুলিশি ওয়ারেন্ট আছে তারপরেও তারা দিব্যি এলাকায় ঘুরাঘুরি করছে। আজগার আলী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ন্যায় বিচারের দাবী করেছেন।