কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা : দুটি জড়াজীর্ণ কক্ষ। দেওয়াল ও ছাদের বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে ফাটল। দরজা জানালাগুলো ভাঙ্গাচোড়া। দেওয়ালে শ্যাওলা ও লতাপাতা জড়ানো। দূর থেকে দেখলে মনে হবে একটি ভুতুরে বাড়ি। আসলে একটি পুলিশ ফাঁড়ি। সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুর ভাগ্যে বদল হলেও ভাঙ্গারহাট পুলিশ ফাঁড়ি ভবনটির। এই ভবনেই মানবেতর জীবনযাপন করে দিন পার করছেন পুলিশ সদস্যেরা।
গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৪ টি ইউনিয়ণ নিয়ে গঠিত এই পুলিশ ফাঁড়ি। প্রায় ২ লক্ষ জনসাধারণের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ১৬ জন পুলিশ সদস্যের জীবন কাটছে ঝুঁকিতে।
২০০১ সালে কোটালীপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত সাদুল্লাপুর, রামশীল, কলাবাড়ি ও রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন সমূহের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গারহাট বাজার সংলগ্ন তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত একতলা ভবনে শুরু হয় এই ফাঁড়ির কার্যক্রম।
ভবনটি সম্পূর্ণরুপে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়লে ২০১২ ফাঁড়ির কার্যক্রম সালে সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্থান্তরিত হয়। এরপর ১৩ বছর ধরেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন এই ভাঙ্গারহাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
নিজস্ব কোন ভবন না থাকায় ছোট ছোট দুটি কক্ষে থাকতে হচ্ছে ১৭ জন পুলিশ সদস্যকে। নেই কোন অস্ত্রাগার। নেই আসামী রাখার কোন কক্ষ। খাওয়া, রান্না এমনকি নামাজের একটি ভালো স্থান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এম মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে এখানকার পুলিশ সদস্যদের।