আব্দুর রাজ্জাক রানা, খুলনা ব্যুরো : ষাটের দশকে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় ২ হাজার ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৮২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মাটি দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। আর কংক্রিট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল মাত্র ৪৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। মাটির তৈরি বাঁধগুলো ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে পারছে না। তবে এক্ষেত্রে ব্লকের বেড়িবাঁধ ঢাল স্বরূপ কাজ করে। জলোচ্ছ্বাস ও দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। স্বাধীনতার প্রায় ৫৫ বছরে উপকূল সুরক্ষায় নতুন কোনো পোল্ডারও তৈরি করা হয়নি। পাকিস্তান আমলে তৈরি বেড়িবাঁধ সংস্কার আর পুনর্নির্মাণেই কেটে গেছে এত বছর। দীর্ঘসময় ধরে কেবল জোড়া তালি দিয়েই চলছে। মাটির তৈরি এসব নড়বড়ে বাঁধ এখন আর সামাল দিতে পারছে না ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, খুলনা) নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় মোট বেড়িবাঁধ ২০২২.৫৭ কিলোমিটার। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ১০৭.৩৫ কিলোমিটার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাস্তবায়িত/বাস্তবায়নাধীন বাঁধের দৈর্ঘ্য ৩৫.২২৯ কিলোমিটার। অবশিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের দৈর্ঘ্য ৭২.১২১ কিলোমিটার। এর মধ্যে খুলনা জেলায় বেড়িবাঁধের মোট দৈর্ঘ্য ১০১৩.৪০০ কিলোমিটার। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের দৈর্ঘ্য ৪১.৭৭৮ কিলোমিটার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাস্তবায়িত/বাস্তবায়নাধীন বাঁধের দৈর্ঘ্য ১৯.৬০৯ কিলোমিটার, অবশিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের দৈর্ঘ্য ২২.১৬৯ কিলোমিটার। বাগেরহাট জেলার বেড়িবাঁধের মোট দৈর্ঘ্য ৩৩৮ কিলোমিটার। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের দৈর্ঘ্য ১১.৮৪৭ কিলোমিটার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাস্তবায়িত/বাস্তবায়নাধীন বাঁধের দৈর্ঘ্য ০.৯০০ কিলোমিটার। অবশিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের দৈর্ঘ্য ১০.৯৪৭ কিলোমিটার। সাতক্ষীরা জেলার বেড়িবাঁধের মোট দৈর্ঘ্য ৬৭১.১৭০ কিলোমিটার। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের দৈর্ঘ্য ৫৩.৭২৫ কিলোমিটার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাস্তবায়িত/বাস্তবায়নাধীন বাঁধের দৈর্ঘ্য ১৪.৭২০ কিলোমিটার। অবশিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের দৈর্ঘ্য ৩৯.০০৫ কিলোমিটার।

উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি বহু বছরের। পরিকল্পিত ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় প্রতি বছর ভাঙন দেখা দেয়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস অথবা অবিরাম বৃষ্টি হলেই কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তখন নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়। এতে জনপ্রতিনিধি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের পকেট ভরে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বেড়িবাঁধ ভাঙার কারণ অনুসন্ধানে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, একশ্রেণির প্রভাবশালী মানুষ উপকূলীয় অঞ্চলে বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে নদীর নোনাপানি ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ করেন। তাছাড়া বেড়িবাঁধের নিচ দিয়ে পাইপ ঢুকিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের পর সৃষ্ট ছিদ্র ভরাট করেন না। ফলে কিছুদিন যেতে না যেতেই বেড়িবাঁধের অবস্থা ভঙ্গুর ও নাজুক হতে থাকে। নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলেই এসব স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। লোকালয়ে প্রবেশ করে লবণাক্ত পানি। এতে প্লাবিত এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়। লবণাক্ত পানি ফসলি জমিতে চলে আসার পর টানা কয়েক বছর ফসল হয় না। মিঠাপানির মাছ ও অন্যান্য প্রকৃতিবান্ধব কীটপতঙ্গের বংশবিস্তারও বাধাগ্রস্ত হয়। কিছু কিছু এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইচ গেট দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় আর পানির সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে বৃষ্টির পানি আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং অনেক সময় বাঁধ ভেঙে পানি বের হয়ে আসে। ষাটের দশকে নির্মাণ করা উপকূলের এই বাঁধ বিভিন্ন সময়ে সংস্কার করা হয়েছে, কিন্তু পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তার রিং দিয়ে বাঁধ কোনো রকমে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। নদীতে পলি পড়ে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায়ই এসব নড়বড়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে।

এদিকে প্রচন্ড ঢেউ, ঘূর্ণি স্রোত, পানির তীব্র তোড়ে প্রতিদিন পাড় ভাঙছে। প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেয়ালের কারণে রাক্ষুসে শিবসা ও ঢাকী নদীর বাঁধ ভেঙে তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষ ঘরহারা হচ্ছেন। খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ ভেঙে এভাবেই লোকালয়ে লবণাক্ত পানি ঢুকছে। বিশেষ করে ৬ নং ওয়ার্ডের বটবুনিয়া গ্রাম ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র, ৫ নং ওয়ার্ডের কামিনীবাসিয়া, ঝালবুনিয়া গ্রামের পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ঝালবুনিয়া খেয়াঘাট পর্যন্ত এলাকা, ঝালবুনিয়া খেয়াঘাট থেকে গড়খালী ১ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন অংশ এবং আঁধারমানিক-নলডাঙ্গা পিচের রাস্তার মাথাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল নদীভাঙনের কবলে পড়ছে। অপরদিকে, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন খুলনার পাইকগাছা, কয়রা, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনির মানুষ। বেড়িবাঁধের বেশিরভাগ অংশ ঝুঁকিতে থাকায় দুশ্চিন্তায় তারা।

কামিনীবাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবু বকর বলেন, একে একে আমার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীভাঙনে আমার ২০ বিঘা জমি বিলীন হয়েছে। শিবসা ও ঢাকী নদীর মোহনায় আমার জমি ছিল। বাকি এক বিঘা জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্লক বানাতে দিয়েছি। প্রথম বছর তারা টাকা দিয়েছিল। কিন্তু আমাকে এখন টাকা দিচ্ছে না। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পরিবার নিয়ে নদীর পাড়ে ঝুপড়ি ঘরের মধ্যে আছি। আবু বকরের মতো এই এলাকার প্রায় অর্ধশত লোক নদীভাঙনের শিকার।

নদীভাঙনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তিলডাঙ্গা এলাকার সমাজসেবক মঈনুর রহমান মঈন বলেন, এই ইউনিয়নের ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষের জীবন, বসতভিটা, কৃষিজমি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতি আজ হুমকির মুখে। নদীভাঙনের ফলে প্রতিনিয়ত মানুষ তাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে দ্রুত টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক। তা না হলে এলাকায় চরম বিপর্যয় নেমে আসবে।

মঈন বলেন, নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে ভবিষ্যতে তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বহু এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

খুলনা জেলার পাইকগাছার দুর্গম উপকূলীয় দ্বীপ ইউনিয়ন দেলুটি, পাটকেলপোতা ও কুমখালীর মানুষ বাঁধ ভাঙার আতঙ্কে রাত হলে ঘুমাতে পারেন না। পাইকগাছার কুমখালী (শান্তা লঞ্চ টার্মিনালের পাশে) বেড়িবাঁধের করুণ দশা তুলে ধরে শান্তা এলাকার বাসিন্দা সাফায়েত হোসেন বলেন, শিবসা নদীর প্রবল স্রোতে তীরে ভাঙন অব্যাহত আছে, এতে মাটিতে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে সেগুলো ধসে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভেঙে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি। পূর্ণিমার সময় যখন নদীতে জোয়ারের পানি বাড়ে তখন বুকের মধ্যে ধকধক করে। কারণ এর আগে বহুবার বাঁধ উপচে লবণাক্ত পানি ঢুকে এলাকার ফসলি জমি-ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কপোতাক্ষ নদের পাড় ঘেঁষা কয়রার কাশির হাটখোলা এলাকার গৃহিণী অর্চনা বলেন, নদীর তীব্র ভাঙনে অসংখ্য পরিবারের বসতভিটা, বাগান, ফসলি জমি ও জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে। গত কয়েক বছরে আমাদের ৭-৮ বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাইনি। কিছু সংস্থা থেকে ত্রাণ পেয়েছি মাত্র। এছাড়া কয়রার দশহালিয়া, পবনা, শেওড়া, হরিণখোলার ওয়াবদার বেড়িবাঁধেরও নাজুক অবস্থা।

বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার ওয়াপদা বেড়িবাঁধও নড়বড়ে। মোরেলগঞ্জের বহরবুনিয়া ইউনিয়নে নদীভাঙনের হাত থেকে ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভাঙন আতঙ্কে থাকা শতাধিক নারী-পুরুষ জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধনও করেছেন।

ক্রমাগত নদীভাঙনে ইতোমধ্যে এ এলাকার কয়েকশ’ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে হাজারো মানুষ এলাকা ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়েছেন। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও অবশিষ্ট জনবসতি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিগত দিনে অনেক আশ্বাস মিললেও বাস্তবে ভাঙন রোধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১১ নং বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ফুলহাতা বাজার থেকে সূর্যমুখী খাল পর্যন্ত তীব্র নদীভাঙনের কবলে শত শত মানুষ গৃহহীন। বেতবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেতবুনিয়া মাদরাসা, কাটাখালের পাড় মসজিদ এবং প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কাটাখালের ব্রিজ ভাঙনের মুখে রয়েছে। এখনই ফুলহাতা বাজার থেকে সূর্যমুখী খাল পর্যন্ত এবং কাটাখালের ব্রিজ পর্যন্ত নদীভাঙন রোধে পাইলিং প্রয়োজন।

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজার সংলগ্ন বেতনা নদীর পূর্ব-দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধ, শ্যামনগর উপজেলার গাবুরায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ও রমজাননগর ইউনিয়নের ৬ নং সোরা গ্রামের বাঁধ প্রতিনিয়ত ভাঙছে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রমজাননগর ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। তখন লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে, ফসল বিনষ্ট হয়। জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায় মাছ।

উপকূল সুরক্ষা কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) খুলনা জেলা সমন্বয়ক এডভোকেট মোহাম্মদ বাবুল হাওলাদার বলেন, ষাটের দশকের বাঁধের পরিকল্পনা বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও উচ্চ জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে বারবার মানুষ সহায়-সম্বল হারাচ্ছেন ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারের প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলের মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রবল ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলের মানুষকে রক্ষা করতে হলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ সময়ের দাবি। টেকসই করতে বাঁধের মধ্যে নির্মাণ প্রয়োজন শক্তিশালী কংক্রিটের দেয়াল অথবা কনক্রিটের ব্লক।

খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকার নদীভাঙনের করুণ চিত্র আমি সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছি। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম বলেন, শরণখোলায় ৩৫/১ এর পোল্ডারে বলেশ্বর নদীর বরইতলা ও গাবতলায় দুটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রয়েছে। বর্ষাকালে যেকোনো সময় ভেঙে গেলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে যাবে। এছাড়া মোরেলগঞ্জের সন্ন্যাসী লঞ্চ ঘাট থেকে বহুরবুনিয়া ইউনিয়নের ঘষিয়াখালী পর্যন্ত বেড়িবাঁধ প্রয়োজন। আমি এ বিষয়ে সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। সেখানে আমি বলেছি, মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের সন্ন্যাসী লঞ্চঘাট থেকে বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ঘষিয়াখালী পর্যন্ত প্রমত্তা পানগুছি নদীতে ছয়টি ইউনিয়নের জন্য একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন। মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, বেড়িবাঁধটি যদি নির্মিত হয় তাহলে আমাদের এই ছয়টি ইউনিয়নের মানুষের জীবন-সম্পদ নিরাপদ থাকবে। তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ না থাকার কারণে জলোচ্ছ্বাস এবং যখন সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড় হয় তখন ওই এলাকাটি প্লাবিত হয়ে যায়। এতে মানুষের জীবন, সম্পদ, ফসল, ফল-ফলাদি নষ্ট হয়, পশু সম্পদ নষ্ট হয়। লবণাক্ততা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাঁধ না থাকার কারণে লবণাক্ততার আক্রমণে আমাদের কৃষকরা ফসল ফলাতে পারছেন না।