কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট। চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে বহির্বিভাগের কক্ষগুলোতে তখন লম্বা লাইন। শিশু-বৃদ্ধ সব বয়সের রোগী এসেছেন চিকিৎসা নিতে। কিন্তু কোনো চিকিৎসক নেই। চারটি কক্ষে চারজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) রোগী দেখছেন। পাশের জরুরি বিভাগও সামলাচ্ছেন গোলাম মাহবুব নামের আরেকজন সেকমো। অনকলে মিলছে মেডিকেল অফিসারদের। দ্রুত এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ৫ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা। দুই লাখ মানুষের বসবাস এ উপজেলায়। এ ছাড়া ভৌগোলিক দিক দিয়ে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫ টি উপজেলার মাঝে অবস্থিত। এ কারনে চৌগাছা, মহেশপুর,কালিগঞ্জ, ঝিনাইদহ সদর,চুয়াডাঙ্গা উপজেলার একাংশের রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে করে রোগীদের বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
এ চাপ মোকাবেলা করছেন,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৬ জন নিয়োগপ্রাপ্ত ও ৩ অনারারী উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররা (সেকমো)। যার মধ্যে রয়েছে সেলিম আক্তার,গোলাম মাহবুব,সুমাইয়া খাতুন, শাহানাজ বেগম,দীপক কুমার পাল,সাকিল মেহেদি ও অনারারী উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লা আল-মাসুদ,আজিজুল হাকিম,মাহফুজ আলম। অন্যদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসক না থাকায় উপজেলার দুইটি সাব-সেন্টার থেকে চিকিৎসক নিয়ে এসে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে রোগীদের। তাও মেলে অনকলে এমনটাই জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্বরজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখে গেছে,কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দুই ভাগে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। একটি আউটডোর ও অন্যটি জরুরি বিভাগ। আউটডোরের চার কক্ষে চিকিৎসা দিতে দেখা গেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চার জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের (সেকমো)। এরমধ্যে ১০৪ নাম্বার কক্ষে শাহানাজ বেগম ও ১০৮ নাম্বার কক্ষে সুমাইয়া খাতুন প্রতিনিয়ত রোগীদের চিকিৎসা দেন। আর ১০১ ও ১০৯ নাম্বার কক্ষে রোস্টার অনুযায়ী সেকমোরা ডিউটি করেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া জরুরি বিভাগে তিন জন সেকমো রোস্টার অনুযায়ী আগে থেকে ডিউটি করতেন চিকিৎসকদের সঙ্গে। তবে এখন রোস্টার অনুযায়ী ডিউটি করলেও ডিউটি করেন চিকিৎসক বিহীন এমনটাই দাবি করেছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাকিল মেহেদী বলেন,আগে স্যারেদের সঙ্গে আমরা ডিউটি করতাম। বর্তমানে সার্বক্ষনিক আমরাই চিকিৎসা দিচ্ছি রোগীদের। সমস্যা হলে স্যারেদের ডাক দেয়া হয়।
তিনি বলেন,চিকিৎসক সংকট থাকায় স্যারেরা মূলত অনকলে থাকেন। প্রয়োজনে ফোন করলেই স্যারেরা আসেন।
এ কথার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তানভীর জামানের(প্রতিক)। তিনি বলেন,সপ্তাহে তিন দিন ২৪ ঘন্টা করে ডিউটি করতে হচ্ছে। মুলত আমরা অনকলে ডিউটি করছি। আর প্রতিদিনের রাউন্ড দিতে হচ্ছে।