বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : ঘর নেই, সংসারও নেই। অভাগিনী এক বিধবা নিঃসন্তান মানিকজান বেওয়া (৭৫)। দেখতে অসুন্দর আর বেটে উচ্চতায় তিনফিট বা সাড়ে তিন ফিট হবে। মানিকজান বিরি যৌবনকালে একবার বিয়ে হয়েছিল। কথাও ক্যান ক্যানে প্রতিবন্ধী হবার কারণে অল্প দিনে সংসার ভেঙ্গে যায় তার। অভাব-অনটনে ঘর-বাড়িবিহীন জীবন কাটে মানিকজান বিবির পরের বাড়িতে। ঘর-বাড়ি না থাকায় মানিকজানের আক্ষেপ এলাকার কতজনে সরকারী ঘর পায় তার ভাগ্যে জুটে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর বাগমারার বাসুপাড়া ইউনিয়নের বালানগর গ্রামের মৃত গোপাল প্রামাণিক মেয়ে প্রতিবন্ধী মানিকজান বিবি। আকারে অত্যান্তই বেটে। মানিকজান বিবি নিঃসন্তান ও অবহেলিত এক জীবন। পিতার তেমন কোন জমিজমা ছিল না। মায়ের সামান্য বসত ভিটা ২ ছেলেদের নামে লিখে নেয়। মানিকানের যৌবনকালে একই ইউনিয়নের খুজিপুর-মধুুপুর লোকমান আলী নামে এক লোকর সাথে বিয়ে হয়েছিল। স্বামী লোকমান ছোট (বামন) হবার কারণে তাকে সংসারে বেশি দিন রাখেনি। এ সময়ের মধ্যে একটি ছেলে সন্তান লাভ করেন তিনি। ছেলে ১০/১২ বছরে হঠাৎ করে মারা যায়। ছেলের অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে মানিকজান বিবি। পিতা-মাতার অবর্তমানে বাধ্য হয়ে বাবার বাড়িতে এসে ভিক্ষা করে জীবন চলছিল তার। দীর্ঘ দিন ছোট ভাই আনিছুর রহমানের বাড়িতে থাকলেও জায়গা সংকটে ভাই তাকে ঘর দিতে চাইছেন না। পরে অনেকের প্রচেষ্টায় ওই বাড়ির এক কোনে তার জায়গা করে দেয়া হয়। গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাবিবুর রহমান জানান, ও বিধবা আকারে ছোট এবং প্রতিবন্ধী। ভালো করে কথা বলতে পারে না। অভাবে থাকে ৩ মাস পরে ভাতা পায় তাও মোবাইলে ভাতা দেবার কারণে ঠিকমত উঠাতে পারে না। টাকা পাচ্ছে বলে শুনেছি। তেমন কাজ কাম করতে পারে না। বেশি ভাগ সময় সে খেজুরপাতার পাটি বুনায়ে বিক্রি করে। তার নিজস্ব থাকার কোন ঘর নেই। ওই সময়ে স্থানীয়দের অনুরোধে তার ভাইকে বলে তাদের ঘরের একটি অংশে জায়গা করে দেয়া হয়। এ বিষয়ে বিধবার ভাই আনিছুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার জমিজমা নেই। পরের জমি বর্গা করে খাই। এখন ছেলে বড় হবার কারণে তাকে জায়গা দিতে সমস্যায় তাকে অনত্র ব্যবস্থার কথা বলেছিলাম। ওই সময়ে তাকে বাড়ি থেকে বের হতে বলায় বাইরে গিয়েছিল। পরে কি করবো আবারো বাড়ির এক কোনে তাকে জায়গা করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন জানান, মানিকজান অতি বেটে মানুষ। অনাহার আর অর্ধহারে সে অসহায় জীবন যাপন করে। বর্তমানে তার বয়স্ক ভাতা হয়েছে। খাবার কিছুটি হলেও জুগাড় করতে পারে। তবে তার নিজস্ব কোন ঘর না থাকায় পরের ঘরে থাকে। সরকারি ভাবে ঘরের চেষ্টা করে হয়নি।
এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় অনেককেই ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। আরো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মানিকজান বিবি গৃহহীন থাকলে তা তদন্ত পূর্বক ঘর করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।