দ্বীন বিজয়ের লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করে প্রতিটি ঘরে ঘরে দাওয়াত সম্প্রসারণ করতে সংগঠনের রুকন সহ সকল স্তরের জনশক্তির প্রতি আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭.৩০ টায় রাজধানীর উত্তরখান জামায়াতের অফিস অডিটোরিয়ামে উত্তরখান পূর্ব থানা জামায়াত আয়োজিত ষান্মাসিক সদস্য (রুকন) সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। থানা আমীর ইসরাইল হোসেনের সভাপতিত্বে ও নায়েবে আমীর তাজুল ইসলামের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও উত্তরা পূর্ব জোন পরিচালক জামাল উদ্দিন ও উত্তরা পশ্চিম জোনের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম মুকুল । উপস্থিত ছিলেন থানার সহকারী সেক্রেটারি শমশের আলী, সমাজকল্যাণ সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, তারবিয়্যাত সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন, কর্মপরিষদ মারুফ হোসেন ও যুব বিভাগের সভাপতি আতিকুর রহমান আকন্দ প্রমূখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, রাজনীতিতে মত পার্থক্য আছে এবং থাকবেও। মূলত, গঠনমূলক মতপার্থক্য জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য খুবই সহায়ক হয়। তাই দেশ ও জাতীয় স্বার্থে আমাদেরকে সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কিন্তু একটি পক্ষ এখন স্বৈরাচারের ভাষায় কথা বলছে। তাদের মুখে এখন লেডি ফেরাউনের নেরেটিভ শোনা যাচ্ছে। যা আমাদেরকে পতিত ফ্যাসিবাদের কথায় স্মরণ করিয়ে দেয়। তারা এখন স্লোগান দিচ্ছেন, ‘দিল্লি গেছে স্বৈরাচার, আর পিন্ডি যাবে রাজাকার’। কিন্তু তাদের মধ্যেই স্বৈরাচার ও রাজাকার ঘাপটি মেরে রয়েছে। আওয়ামী অনেক খারাপ কাজ করলেও রাজাকারের তালিকা তৈরি করে ভালো কাজ করেছিলো। আওয়ামী লীগের আমলে যে রাজাকারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিলো সেখানে তাদের দলেরই রাজাকারের সংখ্যা বেশি। তাই তাদেরকেই দু’দলে ভাগ করে দিল্লি ও পিন্ডি পাঠানোর সময় এসেছে। জনগণ তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বুঝে গেছে। তাই মওকাবাজী করে কোন লাভ হবে না। তিনি সংশ্লিষ্টদের নেতিবাচক রাজনীতি থেকে বেড়িয়ে এসে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফিরে আসার আহবান জানান। অন্যথায় হাসিনার মত পালানোরও সময় পাবেন না।
তিনি বলেন, একটি পক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে শুরু করেছে। তারা অহেতুক ইস্যু সৃষ্টি করে জাতিকে বিভক্ত করতে চায়। অথচ আমরা কখনো বিভাজনের রাজনীতি চাই না বরং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সুখী, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের কারো পাতানো ফাঁদে পা দিলে চলবে না বরং দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই ধৈর্য সাহসিকতা ও প্রজ্ঞার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। তিনি দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বাথে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে সকলকে এক মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। অন্যথায় ফ্যাসিবাদ নতুন করে মাথাচাঁরা দিবে।
শেরেবাংলা নগরে রুকন সম্মেলন: গত শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এক স্কুল মিলনায়তনে শেরেবাংলা নগর থানা উত্তরের উদ্যোগে এক সদস্য (রুকন) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য ও শেরে বাংলা নগর থানা উত্তরের আমীর মু. আব্দুল্লাহ আউয়াল আজমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মনজুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মোবারক হোসাইন। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুর জোন টিম সদস্য ডাঃ শফিউর রহমান, শেরেবাংলা নগর থানা নায়েবে আমীর শাহ আজিজুর রহমান তরুণ, থানা বায়তুলমাল সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল হালিম, এইচআরডি সম্পাদক হুমায়ুন কবির, থানা কর্মপরিষদের সদস্য ও ২৮ উত্তর ওয়ার্ডের সভাপতি হাফেজ মু. শাহজাহান, ওলামা বিভাগের সভাপতি এস এম সাইফুল ইসলাম প্রমূখ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক দল, যা ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক আদর্শকে সামনে রেখে পরিচালিত হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহভীতি, সততা এবং ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জনগণের অধিকার রক্ষা, দুর্নীতি দমন এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা জামায়াতের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।