কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণের কারণে মসজিদে যেমন শান্তি বজায় থাকে, ঠিক তেমনিভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল স্তরে আল্লাহর বিধান ও রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করার মাধ্যমে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
গতকাল ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭ টায় কাফরুল পশ্চিম থানা আয়োজিত সেনপাড়ায় ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসার সভাপতিত্বে এবং থানার ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আতিক হাসান রায়হানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন মিরপুর পূর্ব থানা আমীর শাহ আলম তুহীন, কাফরুল দক্ষিণ থানা আমীর আনোয়ারুল করিম, জোন টিম সদস্য জসিম উদ্দিন ও শ্রমিক নেতা মিজানুর রহমান প্রমুখ। মতবিনিময় শেষে আমীরে জামায়াত বায়তুল ক্বারার মসজিদে মাগরিবের নামায ও সেনপাড়া জামে মসজিদে এশার নামায আদায় করেন। নামায শেষে তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান ও কুশলাদি বিনিময় করেন। পরবর্তীতে তিনি গণসংযোগে অংশ নেন এবং পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে বিশাল নির্বাচনী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের বিপুল অংশগ্রহণ ঘটে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদীরা দেশকে অপরাধ ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিলো। তারা দেশের গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সহ রাষ্ট্রের সকল অবকাঠামোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশ ও জাতিকে পশ্চাদপদ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করার জন্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করা হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে জামায়াতকে ক্ষমতায় পাঠালে দেশকে জনবান্ধব কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে। যেখানে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, মত ও পথ নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজী ও লুটপাট সহ সকল প্রকার অপরাধের মূল্যৎপাটন করা হবে। দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়ে কর্মমুখী, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতাভিত্তিক সর্বাধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে’। তিনি সে কাক্সিক্ষত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ময়দানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ জনবহুল রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিত। কিন্তু ক্রমবর্ধামন জনসংখ্যা আমাদের জন্য মোটেই বোঝা নয় বরং জনগণের প্রতিটি হাতকে কর্মের হাতিয়ারে পরিণত করা গেলে বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব। জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশে ব্যাপকভিত্তিক শিল্পায়নের মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রচলন করা হবে বেকার ভাতারও। যুবকদের ব্যাপকভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানো হবে। একই সাথে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি ঢাকা নগরীর নানাবিধ সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, ফুটপাত সমস্যা সমাধান এবং চাঁদাবাজ ও অনিয়মকারীদের হাত থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মাদকদের বিষয়ে দেখানো হবে শূণ্য সহনশীলতা। যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সবার জন্য সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করা হবে। মূলত, জামায়াত এমন এক ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যে সমাজ হবে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অপশাসন ও দুঃশাসন মুক্ত। তিনি দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সকলকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী। এটা এ আসনের মানুষের জন্য গর্বের। তারা এমন এক মহান ব্যক্তিকে এ আসনে প্রার্থী হিসাবে পেয়েছেন তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তাই দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে ডা. শফিকুর রহমানকে বিজয়ী করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি সে দায়িত্ব পালনে সকলকে ময়দানে সর্বশক্তি নিয়োগ করার আহ্বান জানান’। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।