নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: নান্দাইল উপজেলায় পুলিশি বাধায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত মাদ্রাসার মুহতামিম মাহমুুদুল হাসানের জানাযা’র নামাজে শরীক হতে পারেনি তাঁর পিতা হাইমুদ্দিন। নিহতের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ সেই লাশ নিয়ে চালবাজির অপচেষ্টায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। শুধু তাই নয়, মরহুমের জানাযা’র পরেও ময়না তদন্তের কথা বলে লাশ থানায় নিয়ে আসার জোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা পুলিশকে দাওয়া করে। এতে পুলিশ লাশ ছাড়াই থানায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়।

সরজমিনে জানাগেছে, উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরশ্রীরামপুর গ্রামের হাইমুদ্দিনের একমাত্র পুত্র মাহমুদুল হাসান মামুন (৩২) স্থানীয় মারকাজুল সুন্নাহ্ মাদ্রাসার মুহতামিম। রোববার সকালে মাদ্রাসার পাশে কাজ করছিলেন। এসময় কানুরামপুর-ত্রিশাল আঞ্চলিক সড়কে ত্রিশাল থেকে আসা একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনায় থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে চালককে আটক করে ও প্রাইভেটকারটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। অপরদিকে মামুনের স্বজনরা থানায় কোন অভিযোগ দিতে রাজি না হওয়ায় নিহতের জানাযা’র নামাজ সন্ধ্যায় ৬ টায় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পুলিশ নিহতের বাবা হাইমুদ্দিন সহ তাঁর কয়েকজন স্বজনকে থানায় ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক মামলা নেওয়ার চেষ্টা করে এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমুলক আচরণ করে। এদিকে স্বজনরা জানাযা’র নামাজে অংশগ্রহনের জন্য থানা পুলিশকে বারং বার অবগত করলেও পুলিশ তাদেরকে যথাসময়ে যেতে না দেওয়ায় জানাযা’য় শরীক হতে পারেনি। এদিকে সন্ধ্যায় আবারও নিহতের বাড়িতে যায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহ আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তারা ওই লাশটি দাফন করতে না দিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসার চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এ নিয়ে নিহতের স্বজন সহ এলাকাবাসী পুলিশের প্রতি ক্ষিপ্ত হলে জনগণের দাওয়ার মুখে থানায় ফিরে আসতে বাধ্য হয় পুলিশকে।

নিহতের ভাই আব্দুল কাদির ও ভাতিজা মজনু মিয়া জানান, ওসির ডাকার খবর পেয়ে থানায় গেলে অহেতুক তাদেরকে সময় অপচয় ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে, যা অনুচিত। এছাড়া প্রাইভেটকারের চালক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নান্দাইল শাখার ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আটকিয়ে রাখে। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নিহতের পিতা হাইমুদ্দিন বলেন, আমি কোন ফেরারী বা কোন ধরনের আসামী নই। সড়ক দূর্ঘটনায় আমার ছেলে মারা গিয়েছে, অথচ আমি পুলিশের হয়রানির কারনে তাঁর জানাযা’য় অংশ গ্রহন করতে পারিনি। এর চেয়ে দু:খ আর কি কষ্ট হতে পারে ? মুলত ময়না তদন্তের ভয় দেখিয়ে টাকা চাইলে, সেই টাকা না দেওয়ায় এমনটি করেছে।

এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি নিহত মামুনের জানাযা’য় শরীক হতে সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে যাই। কিন্তু স্থানীয় ফ্যাসিবাদী লোকজন অহেতুক আমার উপর বাকবিতকন্ডা শুরু করে। জানাযা’র নামাজে অংশগ্রহণে না দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, স্বজনরা নিহতের জানাযা’র সময়টি তাকে জানায় নাই। এছাড়া অন্যান্য অভিযোগ সত্য নয়।