দেশবিদেশ বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর কড়ইবাড়ীতে মা ছেলে মেয়েকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলাটি তদন্তের জন্য কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানের নির্দেশে গত কাল সোমবার (৭ জুলাই) বিষয়টি দৈনিক মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মামলার কাগজপত্র আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা মামলার তদন্ত কাজের পাশাপাশি বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছি। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা ২নং আকুবপুর ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের কড়ইবাড়ী গ্রামের মাদক ব্যাবসা ও একটা মোবাইল চুরির ঘটনার বিরোধ নিয়ে কথা কাটাকাটি শেষে ঝগড়াঝাটি মারামারি তৈরি করে রোকসানা আক্তার রুবী পরিবারের রোকসানা আক্তার রুবীসহ আরও দুইজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন রোকসানা আক্তার রুবী তার ছেলে রাসেল মেয়ে জোনাকি। এসময় মারাত্মক আহত হন রুবির মেয়ে রুমা আক্তার। সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এঘটনায় নিহতের মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে ৩৮ জনকে এজাহার নামীয় এবং ২৫ জনজে অজ্ঞাতামা আসামি করে কুমিল্লার বাঙ্গরাবাজার থানা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় আকুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলায় র্যাব এবং সেনাবাহিনীর অভিযানে একজন ইউপির সদস্য সহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, কড়ইবাড়ী গ্রামের ও ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য বাচ্চু মিয়া, রবিউল আওয়াল, আতিকুর রহমান, মোঃ বায়েজ মাস্টার, দুলাল, আকাশ, নাজিমুদ্দিন বাবুল ও ছবির আহমেদ। ৮জনের রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।
বাঙ্গরা বাজার থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে মামলাটি কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরহলে ডিবি পুলিশ তাদেরকে জিজ্ঞেসাবাদ করবে। বাকি আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।