উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার নারকেলতলা খালের স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকায় রোববার সকালে একটি মৃত কুমির উদ্ধার হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, জোয়ারের সময় নদীর শাখা খালে প্রায় নয় ফুট দৈর্ঘ্যের প্রাণীটি ভাসতে দেখা যায়। দ্রুত খবর দেওয়া হয় বনবিভাগকে। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মোংলা–ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ ক্যানেল সংলগ্ন নারকেলতলা খাল এলাকা থেকে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত কুমিরটির গলায় রশি বাঁধা দেখা গেছে এবং একটি সামনের পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। দেহে আঘাতের চিহ্নও স্পষ্ট ছিল। বনবিভাগ জানিয়েছে, প্রাণীটির বয়স আনুমানিক ১৫–১৬ বছর এবং দৈর্ঘ্য প্রায় নয় ফুট। উদ্ধারকালে এটি সুন্দরবন‑পূর্ব বনবিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আ. সালাম হাওলাদার বলেন, "কুমিরটির অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এটি মারা যাওয়ার পর ভেসে এসেছে। পা বিচ্ছিন্ন এবং গলায় রশি বাঁধা ছিল। এটি দুর্ঘটনা না হত্যাকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখা দরকার।" খবরগুলোতে বলা হয়েছে, কুমিরটি ভেসে আসার কিছুক্ষণ পর ভাটার সময় খাল থেকে সরে যায় এবং এরপর আর তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে বন বিভাগ মৃত কুমিরটি উদ্ধারে গড়িমসি করেছে।

পুর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, "খবর পাওয়ার পর আমরা বন বিভাগের একটি টিম পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কুমিরটি দেখতে পাননি। সম্ভবত ভাটার স্রোতে এটি অন্যত্র ভেসে গেছে। তল্লাশি চলছে। নদীতে চলাচলকারী ট্রলার, জাহাজ বা জেলেদের জালে আটকে কুমিরটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি।"

এদিকে, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় কুমিরের উপস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিছুদিন আগে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে এক জেলে কুমিরের আক্রমণে মারা যান। এছাড়া মোংলার বুড়িরডাঙ্গা গ্রামে চিংড়ি ঘেরে বড় একটি কুমির দেখা গেলেও বন বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, হত্যার সম্ভাবনা, দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক কারণে মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে তদন্ত চলছে।