দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তঘেঁষা চেলা নদী এখন এক মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

নরসিংপুর ইউনিয়নের মন্তাজনগর, নাছিমপুর ও রহিমের পাড়া ভাঙনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল। স্থানীয়রা জানান, চোখের সামনে বাড়িঘর ও ভিটেমাটি হারিয়ে যাচ্ছে, অথচ এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। পূর্ব চাইরগাঁও ও সারপিনপাড়ায় ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০ বিঘা ফসলি জমি নদীতে হারিয়ে গেছে।

ভাঙনে ঘরহারা পাথরশ্রমিক শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘নদী আমাদের সব কিছু গিলে ফেলেছে, পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই।’

চাইরগাঁও থেকে সারপিন নগর পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়ক ইতিমধ্যেই নদীতে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকির মুখে রয়েছে আরও এক কিলোমিটার সড়ক। ফলে অন্তত ২০টি গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদর ও জেলা শহরের যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

নরসিংপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নদীভাঙনে বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছে। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শমসের আলী মন্টু জানান, ‘ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিলেট সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন মহলে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।’

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, অবিলম্বে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে।