রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অগ্রণী সেচ প্রকল্পের বেদখল আর দূষণে অস্তিত্ব হারিয়ে যাওয়া খাল উদ্ধারে নেমেছে প্রশাসন। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার সরকারি খাল অবৈধ দখলের কারণে সঠিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করছে। জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। ডজন খানেক প্রতিষ্ঠান সেচ প্রকল্পের পানি নিষ্কাশন খালে স্থাপনা নির্মাণসহ বালি ভরাটের মাধ্যমে দখল করে রাখার কারণেই এ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। জলাবদ্ধ সমস্যা থেকে উত্তরণে মাঠে নামে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। গত ১৪ আগস্ট পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শনকালে সরকারি খাল দখল করে বালু ভরাট, বালুর গদি ফ্যাক্টরি নির্মাণসহ নানা অভিযোগের সত্যতা খুজে পান। পরে কয়েকটি খাল তাৎক্ষণিক দখল মুক্ত করা হয়।
এ সময় সেচ প্রকল্পের খালে বালি ফেলে ভরাট করে দখলে নেওয়ার কারণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন যৌথভাবে পূর্বাচল ইষ্টউড সিটিতে অভিযান পরিচালনা করে। তারা আবাসন কোম্পনীর বিরুদ্ধে সরকারি খাল দখলের সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রশাসন কয়েকটি খাল ভেকু দিয়ে দখল মুক্ত করে। এসময় বাকী খাল গুলো দখল মুক্ত করতে ইষ্টউড সিটিকে তিন মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
ইষ্টউড আবাসন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন বলেন, আমাকে ৩ মাসের সময় দেয়া হয়েছে, সে সময়ের আগেই সরকারী খাল খনন করে দিবো। এছাড়া নিয়মকানুন মেনে সকল প্রকার কার্যক্রম চালাবো।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাছবীর হোসেন জানান, খালের উপর একাধিক আবাসন প্রকল্প, বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরিসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করায় পানির চলাচল বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই সরেজমিনে এসে যত জবরদখল ও স্থাপনা ছিল তাদেরকে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই সাথে ভরাটকৃত খালগুলো দ্রুত খনন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ঢাকা পরিবেশ ছাড়পত্র সদর দপ্তরের পরিচালক মাসুদ ইকবাল শামীম বলেন, ইষ্টউড আবাসন কোম্পানিতে অভিযান পরিচালনা করে সরকারি খাল ভরাটের সত্যতা পাই। কয়েকটি খাল ভেকু দিয়ে খনন করে দখলমুক্ত কার্যকক্রম শুরু করা হয়। কোম্পানিকে তিনমাসের সময় দেওয়া হয়েছে দখলকৃত সবগুলো খাল খনন করে দিতে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা পরিবেশ ছাড়পত্র সদর দপ্তরের পরিচালক মাসুদ ইকবাল মোহাম্মদ শামীম, নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এএইচএম রাশেদ, সহকারি কমিশনার ভূমি তাছবীর হোসেনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা।