শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা : মরুভূমির জাহাজ নামে পরিচিত উট এখন যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী গ্রামের নাসিরের খামারে। বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত এটি টিভির পর্দায় কিংবা বইয়ের পাতায় দেখে থাকে। সেই উট এখন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা যশোরের বেনাপোল পুটখালী গ্রামের নাসিরের খামারে পাওয়া যাচ্ছে । ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে ব্যতিক্রমী এই দৃশ্য তৈরি হয়েছে নাসিরের খাটাল নামক একটি খামারে।
খামার সূত্রে জানা যায়, এই খামারে রাখা উটগুলো এক বছর আগে সৌদি আরব থেকে আমদানি করা হয় বিশালাকৃতির কিছু উট। যার প্রতিটির উচ্চতা ১২ থেকে ১৫ ফুট। কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে এক একটি উট বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ লক্ষ টাকার মধ্যে। এই খামারে সাতটি উট আছে তার ভিতরে একটি উট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।
খামারিরা জানান, এই উটগুলো আমরা বিশেষভাবে রেখেছি কুরবানির জন্য। প্রতিদিন সকালে গোসল করানো হয়, খাওয়ানো হয় ছোলা, ভুট্টা আর ঘাস। প্রতিদিন ভোরে শুরু হয় উটের পরিচর্যার কাজ। পরিষ্কার পানি দিয়ে গোসল, তারপর উন্নত মানের খাবার খাওয়ানো হয়। যেন রাজকীয় সেবায় অভ্যস্ত এরা। উটের পরিচর্যায় রয়েছে আলাদা যত্ন। বিশাল এই প্রাণীগুলোকে প্রতিদিন নির্ধারিত খাদ্য তালিকা মেনে খাওয়ানো হয়।
দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে এই গ্রাম। অনেকে শুধুই দেখার জন্য আসছেন, আবার কেউবা পরিবারসহ এসে আগ্রহ নিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন কুরবানির জন্য দরদাম ও করছেন অনেকে।
গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে উট নিয়ে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। শিশুরা উটের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে, কেউবা ভিডিও করছে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার জন্য।
যেখানে কুরবানির হাট মানেই গরু ও ছাগলের আধিপত্য, সেখানে মরুভূমির জাহাজ হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বেনাপোল পটুয়াখালীর এই ব্যতিক্রমী আয়োজন নিঃসন্দেহে ঈদের আনন্দকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা।
যশোরের শার্শা উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তপু কুমার সাহা জানান, এতো সীমান্ত এলাকায় সাধারণত উট দেখা যায় না। এটি চাষ করা বা পোষা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এই প্রথম পুটখালী গ্রামের নাসির সখের বশে সৌদি আরব থেকে আমদানি করেছেন। যা কুরবানির জন্য বিক্রি করবেন। এর চাষ, খাদ্য তালিকা এবং পরিচর্যার নিয়ম সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।