টেকনাফ সংবাদদাতা : কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরা কারবারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। ৫ আগস্টে সরকার পতনের পর প্রশাসনের নমনীয়তার সুযোগে মাদক ও চোরাকারবারীরা লাগামহীন হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশনায় কক্সবাজার রিজিয়নের অধিনস্থ ব্যাটায়নগুলো মাদক আটকাতে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। এরই ধারা বাহিকতায় বিজিবি "কক্সবাজার রিজিয়নের ব্যাটালিয়নগুলো গেল দুই মাসে
১৪৭টি অপারেশনের মাধ্যমে আটাশি কোটি নয় লক্ষ চৌষট্টি হাজার টাকা মূল্যের ২৮ লক্ষ দুইশো নয় পিস ইয়াবাসহ, সিস্টালমেথ ও অন্যান্য মাদক উদ্ধার করেছে। এসময় ১৮৮ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। কেবল মাদকই নয়, ২২ লক্ষ সাইত্রিশ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২২টি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এসময়ও ৫ জন অস্ত্রধারীকে আটক করতে সক্ষম হয়। এছাড়া ১০ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা মূল্যের বার্মিজ ২২৬ টি গরুসহ অন্যান্য চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছেন।
সম্প্রতি কক্সবাজার উর্মি রেস্ট হাউজে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির সফলতা হিসেবে এসব তথ্য তুলে ধরেন কক্সবাজারের রিজিয়নের ‘রামু সেক্টর কমান্ডার’ কর্নেল মহি উদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মাদক চোরাচালান রুটে কঠোর নজরদারি রাখছে। বিশেষ করে টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষংছড়ি রুটে বিজিবির জওয়ানেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত টহলের মধ্যদিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদেও দমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ড্রোন, নাইট ভিশন ডিভাইসসহ অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে মাদক ও চোরাচালান রোধে সীমান্তে কঠোর নজরদারি রাখছে বলে জানান তিনি।
ভবিষ্যতে মাদক প্রবেশ, চোলাচালানকারীদের দমন ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোসহ সীমান্তে নিরাপত্তায় বিজিবির সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানান কক্সবাজার বিজিবি সদর দপ্তরের দায়িত্বরত রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কার্নেল আশিকুর রহমান, উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দীনসহ অন্য বিজিবির অন্য কর্মকর্তারা।