মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনের নামে পরিকল্পিত জালিয়াতি ও প্রতারণার ভয়ঙ্কর চিত্র উঠে এসেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসকে কেন্দ্র করে। লিখিত অভিযোগে সরাসরি জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে একজন সনদধারী দলিল লেখক, সরকারি দায়িত্ব ও আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে দুই দরিদ্র সহোদর ভাইয়ের সঙ্গে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষাধিক টাকা তাদের অজান্তেই সাব-কবলার পরিবর্তে হেবা দলিল করে দিয়ে জমি হস্তান্তরের আইনগত নিরাপত্তা হরণ করেছেন। এই ঘটনা শুধু একজন ভুক্তভোগীর নয়, বরং এটি পুরো দলিল ব্যবস্থার ভেতর লুকিয়ে থাকা দুর্নীতি ও দালালি চক্রের নগ্ন প্রমাণ।

অভিযোগপত্রে নাম উঠে এসেছে মুরাদনগরের আজাদ হোসেন রিপনের, যিনি একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক (সনদ নং: ১২৮)। অভিযোগকারীরা হলেন মোঃ মজিবুর রহমান এবং তার ভাই আকবর, পিতা আবদুল সহিদ। উভয়ের স্থায়ী ঠিকানা উপজেলার জাড্ডা গ্রামে। তারা জানান, ১৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে তারা তাদের পিতার কাছ থেকে জমি হস্তান্তরের জন্য দুইটি সাব-কবলা দলিল সম্পাদনের উদ্দেশ্যে আজাদ হোসেন রিপনকে দায়িত্ব দেন। প্রক্রিয়ার শুরুতেই আজাদ তাদের কাছ থেকে সাব-কবলা দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাবি করেন ২,১৫,০০০ টাকা, এবং ওই অর্থ তারা নগদে পরিশোধ করেন। এরপর তিনি তিনটি খাজনা দাখিলা কেটে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেন ৩০,০০০ টাকা, কিন্তু পরে খতিয়ে দেখা যায়, খাজনা জমা হয়েছে মাত্র ১,৩৭৫ টাকা।

এছাড়া, সহি মোহরী খতিয়ান এবং দুটি নকল দলিলের জন্য আরও ৮,০০০ টাকা এবং নামজারির জন্য ১৬,০০০ টাকা আদায় করেন তিনি। সব মিলিয়ে আজাদ হোসেন রিপন এই দুই ভাইয়ের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন মোট ২,৬৯,০০০ টাকা। অথচ পরে দলিল হাতে পেয়ে তারা আবিষ্কার করেন এটি সাব-কবলা নয়, বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির একটি হেবা দলিল। এই দলিলের মাধ্যমে আইনগতভাবে মালিকানা হস্তান্তরের যে নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব চাওয়া হয়েছিল, তা পাওয়া সম্ভব নয়।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। অভিযোগকারীরা আরো জানান, তাঁরা এই জালিয়াতির বিষয়টি বুঝতে পারার পরপরই মুরাদনগর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সরাসরি গিয়ে প্রতিবাদ জানান। তখন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজেই তাঁদের জানান যে, আজাদ হোসেন রিপন দীর্ঘদিন ধরে এভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন এবং তিনি নিজেই তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।

প্রশ্ন হলো, যদি দায়িত্বরত কর্মকর্তারা আগে থেকেই জানতেন এই প্রতারণার কথা, তবে এতদিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? তাহলে কি ধরে নেওয়া যায় যে এসব প্রতারণায় প্রশাসনিক কোনো নীরব সমর্থন বা সুবিধাভোগী গোষ্ঠী জড়িত?