হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বিকল্প জীবিকায়নের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ছাগলসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগে যেমন কিছু জেলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, তেমনি অনেকে অনিয়ম ও নিম্নমানের ছাগল বিতরণের অভিযোগও তুলেছেন।
সম্প্রতি হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ৭১ জন নিবন্ধিত দরিদ্র জেলের মাঝে ২টি করে ছাগল, খোঁয়াড় নির্মাণ সামগ্রী, পশু খাদ্য, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও চিকিৎসা উপকরণ বিতরণ করে মৎস্য অধিদপ্তর। এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের “প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (দ্বিতীয় পর্যায়)” প্রকল্পের আওতায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম মশিউজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভেটেরিনারি সার্জন ডা. প্রবীর কুমার দে এবং উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেরুনেচ্ছা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন অফিস সহকারী মোহাম্মদ লোকমান হোসেন।
উপকারভোগী প্রত্যেক জেলেকে প্রায় ২৯ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের উপকরণ দেওয়া হয়। প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ছিল ২০ লাখ ৭৬ হাজার ৭৫০ টাকা। ছাগল বিতরণের সময় পিপিআর ভ্যাকসিন দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে টিকাদানও সম্পন্ন হয়।
তবে ছাগলের মান নিয়ে জেলেদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গড়দুয়ারা, গুমানমর্দ্দন, মধ্যম মাদার্শা, মদুনাঘাট ও উত্তর বুড়িশ্চরের অন্তত ২০ জন জেলে অভিযোগ করেন, প্রদত্ত ছাগলগুলোর অনেকগুলো রোগাক্রান্ত, আকারে ছোট ও অপ্রতুল। তাদের দাবি, বরাদ্দের বাজেটে উন্নত জাতের ছাগল বা গরুর বাছুর দেওয়া সম্ভব হতো, যা অর্থনৈতিকভাবে তাদের জন্য আরও সহায়ক হতে পারত।
মাদার্শার একজন জেলে বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রশ্রিুতি শুনছি। এবার কিছু পেলেও ছাগলের মানে আমরা হতাশ।’
হালদা ডিম সংগ্রহকারী সমিতির সভাপতি মো:শফিউল আলম বলেন ছাগলের মান ও ওজন নিয়ে আমরা সোচ্চার হলে ৭১ জনের মধ্যে ৫১ জনকে ৮ কেজির উপরে ওজন পরিমাপ করে ভেকসিন দিয়ে সুস্থ সবল ছাগল দেওয়া হয়,বাকি ২০ জনকে পরের দিন দিবে বলে জানিয়ে দেন। জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা জানান গতকাল ৭১ জনকে ৮ কেজির উপরে সুস্থ সবল ছাগল ও অন্যান্য উপকরণ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
যারা গতকাল ছাগল নিয়ে যায়নি তারা আজ কান্নাকাটি করেও ছাগল পায়নি নতুন করে ১৮ জনকে দেওয়া হয়ছে তবে গতকালের মধ্যে হইতে ২ জন সহ আজ ২০ জনকে দেওয়া হয়েছে। মোট ৭১ জন পেয়েছে। উল্লেখ্য ৩২০ জনকে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম কে কয়েকবার ফোন করলে ও রিসিভ করেননি।
হালদা নদীতে মাছের প্রজননকালীন সময় জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতেই সরকার বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে।