মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের পাশে অবৈধভাবে পুকুর ও সেচ নালা খননের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। সড়কের একদম ধার ঘেঁষে এসব জলাধার খননের কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সড়কের পার্শ্ব-ঢাল ও মূল কাঠামো। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার ধামঘর, নবীপুর, কামাল্লা, বাঙ্গরা, ছালিয়াকান্দি ও রামচন্দ্রপুর এলাকায় দেখা গেছে, অনেক গ্রামীণ সড়কের একদম পাশে গভীর পুকুর খনন করা হয়েছে। কোথাও নতুন খননের কাজ চলছে, আবার কোথাও পানি উঠে এসে সড়কের নিচের মাটি ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে রাস্তা বেঁকে যাচ্ছে, ভেঙে পড়ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি উদ্যোগে গ্রামীণ সড়কগুলোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু কিছু জায়গায় মানুষ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সড়কের একদম পাশে পুকুর বা সেচ নালা খনন করায় রাস্তাগুলোর স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, “আমরা এই রাস্তায় ফসল নিয়ে হাটে যাই। এখন পাশের পুকুরের কারণে মাটি সরে গিয়ে রাস্তা বসে গেছে। বৃষ্টি হলে পানি চলে আসে রাস্তার উপর।”
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত পরিপত্রে বলা হয়েছে- “গ্রামীণ সড়কের ধার ঘেঁষে পুকুর, কূপ, মাটি বা সেচ নালা খনন দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
বৃষ্টির সময় এসব জলাধারের পানি উপচে পড়ে রাস্তায় উঠে আসে, যার ফলে যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, “উন্নয়নের স্বার্থে রাস্তাগুলোর স্থায়িত্ব রক্ষা করতে হলে জলাধার খননে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।”
উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, “অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর একটি সড়কের বাজেট প্রদান করা হয়। জনস্বার্থে আমরা নিয়মিতভাবে মানুষকে সচেতন করছি। সবাই যদি আইন মেনে চলে, তাহলে রাস্তা যেমন টিকে থাকবে, তেমনি উন্নয়নও হবে স্থায়ীভাবে।”