মংলা সংবাদদাতা: সুন্দরবন উপকূলজুড়ে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে উত্তাল পরিস্থিতি। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভোর থেকে সমুদ্রে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকায় সাগরে অবস্থানরত শত শত মাছধরা ট্রলার নিরাপত্তার জন্য সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, সুপতি, দুবলা, শরণখোলা, রাজৈর ও মোংলাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তাল সাগর ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় মোংলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

মোংলা আবহাওয়া অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ হারুন আর রশিদ জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের পার্থক্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে, টানা বৃষ্টিপাতে মোংলা বন্দরে ছয়টি কার্গো জাহাজে পণ্য ওঠানামার কার্যক্রমে বিঘœ ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গভীর সমুদ্রে থাকা কয়েক শত ফিশিং ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে প্রবেশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ১ জুন থেকে সুন্দরবনে বনজীবী ও পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয়ের জন্য ট্রলারগুলো ঢুকতে পারছে। তবে এ সুযোগে কেউ যদি মাছ শিকারে লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হবে। সার্বিকভাবে, বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে, ফলে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে।