মফিজুর রহমান, অভয়নগর (যশোর) : যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া থেকে ৭ হাজার ২শ’ বস্তা ইউরিয়া সার যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকার ইউরিয়া সার লোপাট করে একটি চক্র। ডিবি’র চেষ্টায় ৩ হাজার ২শ’ বস্তা সার উদ্ধার হলেও বাকি ৪ হাজার বস্তা সারের হদিস এখনও মেলেনি। এনিয়ে পানি ঘোলা করছে খোদ দেশের আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সামিট এ্যাসোসিয়েটস-এর নিয়োগকৃত সার পরিবহন ও হ্যান্ডেলিং ঠিকাদার মেসার্স নভো ট্রেড এন্ড ট্রান্সপোর্ট। এই চক্রের হোতাদের আইনের আওতায় নিয়ে জিঙ্গাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল এমনটাই জানিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, নভো ট্রান্সপোর্ট তাদের নিয়োগকৃত দালালদের নিকট থেকে ২৫ লাখ টাকা নিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। দালালদের থেকে নেয়া এটা কিসের টাকা? এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সব জায়গায়। তবে এর সাথে জড়িতরা প্রশাসনকে ভিন্ন পথে হাটাচ্ছে বলেও স্থানীয়দের রয়েছে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, নভো ট্রান্সপোর্টের নিয়োগকৃত লোকদের কাছেই রয়েছে এই তালার চাবি।
উল্লেখ্য, এ ব্যাপারে গত ১৪ মার্চ অভয়নগর থানায় মামলা রুজু হয়েছে। এরপর যশোর ডিবি ২ জনকে আটক করলেও প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে ধরা ছোয়ার বাইওে রয়েছে চক্রের হোতারা। সরকারী এ ইউরিয়া সার নির্দিষ্ট বাফার গুদামে পৌছিয়ে না দিয়ে তা অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে ওই চক্রের সদস্য। এদিকে প্রশাসনের দৃষ্টি ঘোরাতে হোতার দুই চক্র পরস্পরকে দোষি করে অভয়নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। কিন্তু আজও কোন কুল কিনারা করতে পারেনি প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সবকিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে ওই সিন্ডিকেট।
অভয়নগর থানায় অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দেশের আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সামিট এ্যাসোসিয়েটস্ এর আমদানি করা ইউরিয়া সার পরিবহন ও হ্যান্ডেলিং ঠিকাদার মেসার্স নভো ট্রেড এন্ড ট্রান্সপোর্ট-এর প্রতিনিধি উপজেলার ধোপাদী গ্রামের দীন মোহাম্মাদ মোল্যার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মিল্টন (৩৮) বাদি হয়ে ৪জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামীরা হচ্ছে, ১) উপজেলার ভাঙ্গাগেটস্থ মেসার্স শাহরিয়ার ট্রান্সপোর্ট-এর মালিক (ট্রাক বন্দবস্তকারী) যশোর জেলার কোতয়ালী থানার চাউলিয়া গ্রামের নুর ইসলাম মোল্যার ছেলে মো: মিলন হোসেন (৪৫), ২) নওয়াপাড়া গ্রামের মো: কেরামত আলী ছেলে মো: আবু বক্কার, ০৩) বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের মো: শাহাজান আলীর ছেলে মো: রমজান আলী (৩০), ৪) যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের অনাত সাহার পুত্র উজ্জল কুমার সাহা (৩৫)। এর মধ্যে ১নং আসামী মিলন ও ৪নং আসামী উজ্জল আটক হলেও বাকি দুই আসামীকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ।