দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন শোষণ মুক্ত, বৈষম্যহীন এবং ইনসাফপূর্ণ সমাজ গঠনের যে মহান লক্ষ নিয়ে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা বাংলাদেশকে শাসন করেছেন তারা মুক্তিযোদ্ধের সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বার বার ব্যর্থ হয়েছেন। তারা দেশটাকে পারিবারিক সম্পদের মতো ব্যবহার করে জনগণের ন্যায্য অধিকার দিতে পারেনি। স্বাধীনতার পর যে সকল দল দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তারা পারিবারিক জমিদারি আর স্বৈরাচারী মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। জাতি তাদেরকে বার বার প্রত্যাখান করেছে। তাই পারিবারিক জমিদারি আর স্বৈরাচারী রাজনীতি থেকে মুক্তির জন্য দেশবাসী জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

তিনি আরও বলেন বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদিরা বার বার জামায়াতে ইসলামীকে দমিয়ে দিতে অপচে করেছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে আমাদের শত শত নেতাকর্মীদের অন্যায় ভাবে হত্যা করেছে।আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন মামলায় ফাঁসি দিয়ে দলকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনের সময় জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ২৪ এর ছাত্র জনতার গণআন্দোলনে তারাই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। জনগণ আজ তাদেরকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। জামায়াতকে জনগণ প্রাণভরে গ্রহণ করছে।

জামায়াতের কথা শুনার জন্য লোকজন আজ উদগ্রীব। গ্রামে গঞ্জে দেশের সর্বত্র জামায়াডে ইসলামীর গণজাগরণ তৈরি হয়েছে। দেশের ছাত্র-জনতার মধ্যে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হচ্ছে। দেশের ছাত্র সমাজ ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতৃত্ব গ্রহণ করে ডাকসু, জাকসু,চাকসু এবং রাকসু নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় তুলে দিয়েছে। তিনি বলেন ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পরে কেউ কেউ নতুন করে দখল বাজি আর টেন্ডার বাজির মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হবার স্বপ্ন দেখছেন। এদেশের জনগণ আর কোনো লুটেরা, চাদাবাজ, সন্ত্রাসী এবং দখলদারকে ক্ষমতায় দেখতে চায়না। আগামী সংসদ নির্বাচনে শোষণ মুক্ত, বৈষম্যহীন এবং ইনসাফ পূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।