রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে দুটি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পাঁচশত পরিবারের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চর কলাকোপা গ্রামের আদর্শ গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও দুর্ভোগের শিকার মোঃ গিয়াসউদ্দিন ও মোঃ ইউসুফ এ অভিযোগ করেন। কালবার্ট ও পানি চলাচলের পথ বন্ধ কারি অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হচ্ছে আলা উদ্দিন, আবদুস শহীদ, রাসেল মাঝি, এবং নুরনবী বর্দ্দার,

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উল্লেখিত অভিযোগ কারি ও ক্ষতিগ্রস্তরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

অভিযুক্তরা কালবার্ট বন্ধ করে প্রায় পাঁচশত মিটার খাল ভরাট করে দখল করে নেয় এতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এসময় এলাকার আরো শতাধিক লোক উপস্থিত হয়ে জানান একসময় এই এলাকা বসতি ছিল না পরবর্তীতে যখন বসতি হয় এবং চলাচলের রাস্তা ঘাট তৈরি হয় তখন থেকেই পানি চলাচলের জন্য একটি সরুখাল কেটে পানি যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, নির্বিগ্নে পানি যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়ায় রাস্তায় দুটি কালভার্টে নির্মান করা হয়। কিন্তু বছর তিনেক আগে আলা উদ্দিন,আবদুস শহীদ, এবং রাসেল মাঝিরা বাড়ি নির্মান করতে গিয়ে পানি চলাচলের পথসহ দখল করে নেয়, পরে গ্রাম বাসিরাসহ সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার গিয়াস উদ্দিন নিজস্ব অর্থায়নে পুনরায় ভেকু মেশিনের সাহায্য পানি চলাচলের পথ অবমুক্ত করেন, ৫ ই আগস্টের পর পুনরায় তারা পাঁচশ মিটার পানি চলাচলের পথ ও কালভার্টের মুখ বালি ভর্তি বস্তা এবং ঢেউ টিন দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এতে পানি যেতে না পারায় পুরো গ্রাম জুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের কাছে স্থানীয়দের দাবি আদর্শ গ্রামকে জলাবদ্ধতা মুক্ত রাখতে হবে যে কোন মুল্যে তাদের পানি যাওয়ার পথকে প্রতিবন্ধকতা মুক্ত করতে হবে। এই নিয়ে দফায় দফায় গ্রাম বসির সাথে তাদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যে কোন সময় সংঘর্ষের ঘটনা ও ঘটতে পারে।

অভিযুক্ত আবদুস শহীদের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনা স্বীকার করে বলেন তারা বাড়ি করাবার আগেই কালবার্ট ও পানি যাওয়ার পথ ছিল তিনি আরো বলেন এছাড়া এলাকার পানি যাওয়ার আরেকটা পথ ছিল কালবার্ট ভেঙে রাস্তার সাথে মিশিয়ে দিয়ে সামনে মাদ্রাসা ঘর নির্মান করা হয়। এখন সেটাও মুক্ত করুক আমরাও এ পথ মুক্ত করে করে দেবো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ ইব্রাহিম জানান তার ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামের জলাবদ্ধতা আছে। এখানে সরকারি রাস্তা ও দুটি কালবার্ট আছে যারা পানি চলাচলের পথ বন্ধ করেছে তিনি তাদের সাথে কথা বলেছেন তারা জনসার্থে পথের প্রতিবন্ধকতা তুলে নিবেন তার কাছে আলা উদ্দিন গং রা পানি চলাচলের আরেকটি পথের কথা জানিয়েছেন তার খোঁজ খবর ও নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আমজাদ হোসেন জানান এ বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি তবে সরকারি কালবার্ট ও পানি চলাচলের পথ বন্ধ করার কারো এখতিয়ার নেই, যারা এসব করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি ঘটনাস্থলে যাবেন বলেও জানান।