এম, এ জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : আসন্ন কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খামারীরা প্রস্তুত করেছে প্রায় লক্ষাধিক পশু। উপজেলার পৌর এলাকা ও ১৩টি ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে স্বযতেœ লালন পালন করে প্রায় এক লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় ও গাভি ৬০ হাজার , ছাগল ২০ হাজার, ভেড়া ১০ হাজার, গাড়ল (বিদেশি ভেড়ার জাত) ৫০০টি, মহিষ ২০০টি ও দুম্বা ২২টি। দুগ্ধ শিল্পের জন্য বিখ্যাত দেশের অন্যতম গোÑচারন ভূমি ও মিল্কভিটা কারখানার সুবাদে উপজেলায় ৩০ হাজার ছোট বড় গরুর খামার রয়েছে।

এ বিষয়ে কৃষক আবু সাঈদ সাধু সরদার জানান, ২ বছর আগে তার গোয়ালের শংকর জাতের একটি শাহীয়াল গাভী সাদাকালো ডোরাকাটা এড়ে বাছুর জন্ম দেয়। বাছুরটির আকার আকৃতি ও ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বড় ও হৃষ্টপুষ্ট হওয়ায় আদর করে তার নাম রাখা হয় সোহাগ বাবু। সেই থেকে তিনি সোহাগ বাবুকে পুত্র স্নেহে পরম যতেœ আদর সোহাগ দিয়ে লালন পালন করছেন। সোহাগ বাবুকে নিজ হাতে নাওয়ানো খাওয়ানো থেকে শুরু করে সবকিছুই করেন সাধু সরদার। সোহাগ বাবুকে লালণ পালন করাই এখন তার একমাত্র কাজ। প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিজ হাতে শুরু করেন সোহাগ বাবুর পরিচর্চা। খাওয়ানো ও সাবান শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানোর কাজ চলে সকাল ১০টা পর্যন্ত। এরপর নিজে গোসল ও খাওয়া সেরে কাস্তে হাতে বেড়িয়ে পড়েন চক পাথারে সোহাগ বাবুর জন্য তাজা ঘাস সংগ্রহে।

গো-খামার মালিক মশিপুর গ্রামের শাহান উদ্দিন শাহীন বলেন, তার খামারের বয়স ১৩ বছর। তিনি প্রতি বছর ২৮-৩০টি ষাঁড় গরু ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কুরবানির পশুর হাটে নিয়ে বিক্রি করেন। এ বছরও তিনি ২০টি গরু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ছোট বড় ষাঁড় গরু রয়েছে ১৮টি। তার ৩টি ষাঁড় গরু এলাকার সবার নজর কেড়েছে। এ ষাঁড়গুলো দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিনই লোকজন এসে ভিড় জমাচ্ছেন। কেউ আবার কেনার আগ্রহ পোষণ করে দাম-দর করছেন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী দাম না বলায় তা এখনো বিক্রি হয়নি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, শাহজাদপুরে মোট ৩০ হাজার গো-খামার রয়েছে।

এর মধ্যে ছয় হাজার খামারে দেশীয় জাতের খাদ্য খাইয়ে খামারীরা মোটাতাজা করে লালন পালন করেন। কুরবানীর পশু শাহজাদপুরের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ গরুর হাটে বিক্রি করেন। বাঁকি ২৪ হাজার খামারে ডেইরি মিল্ক উৎপন্ন করা হয়।