কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জিলাপীতলা, হিজলাকর, উত্তর মূলগ্রামসহ এলাকার মানুষের চলাচল করা সড়কটি বারোমাস কাঁদা পানি ধূলায় ভরে থাকে। চরম জনদুর্ভোগ দীর্ঘদিনের হলেও সংস্কার নেই, ফলে ভেঙে যাচ্ছে ছেলে-মেয়েদের বিয়েও। রাস্তা সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, ২০০৬ সালে সদকী ইউনিয়নের জিলাপীতলা বাজার থেকে গড়াই নদীর বালুরঘাট পর্যন্ত ৭ শত মিটার গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণ করে এলজিইডি। প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টি বালু ভর্তি ৬ চাকা ও ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক চলে এই সড়ক দিয়ে। এতে সড়কের কার্পেটিং উঠে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রচুর ধূলাবালি আর বর্ষায় জমে থাকে কাঁদা পানি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে জিলাপীতলা, হিজলাকর, উত্তর মূলগ্রামসহ আশপাশ এলাকার ১০ হাজার নানাবয়সি মানুষ। প্রতিবছর প্রায় দুই কোটি টাকার বালুরঘাট ইজারা দেয় প্রশাসন, কিন্ত রাস্তাটি সংস্কার করেনা। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে ৭ জ্লুাই কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের জিলাপীতলা এলাকায় মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। পরে ভাঙা ও জরাজীর্ণ সড়কে বিক্ষোভ করে ধানের চারা রোপন করে প্রতিবাদ জানান তারা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে অনেক আগেই। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। ভারি যানবাহন চলায় সড়কের দুইপাশে লেন সৃষ্টি হয়েছে। তাতে জমে আছে কাঁদা পানি। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বালু তোলা বন্ধ রয়েছে। বালু তোলার জন্য ড্রেজিং মেশিন রাখা রয়েছে ঘাটে। দিন রাত মিলে শত শত বালুর গাড়ি চলে। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কাঁচা নাকি পাকা সড়ক। কাঁদাপানির কারণে এই সড়ক দিয়ে অটোভ্যান, সিএনজিসহ কোনো গাড়ি আসতে চায়না। মাথায় করে কৃষিপণ্য বহন করা লাগে। এতে খরচ ও ভোগান্তি হয়

সদকী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ ও পল্লী চিকিৎসক আসাদুল ইসলাম বলেন, বালুর গাড়ি চলার কারণে কার্পেটিং উঠে রাস্তার বেহাল দশা। সরকার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব নিয়ে যায়, কিন্তু রাস্তার কোনো কাজ করেনা।