মোংলা সংবাদদাতা: রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাগেরহাটের মোংলায় উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে দিগরাজ এলাকায় আয়োজিত এ বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা-রামপাল-ফকিরহাট সংসদীয় আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি উপস্থিত নারী-পুরুষের মাঝে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ করেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত এই পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ৩০ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, মোংলা নদীতে এমন একটি ঝুলন্ত সেতু তৈরি করতে হবে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ক্ষতি না করে যোগাযোগের সুবিধা বাড়াবে। পাশাপাশি নদীর তীর রক্ষায় ভেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তৃতায় লায়ন ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “তারেক রহমান দেশের প্রতিটি জনপদের খোঁজ রাখেন এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে ভাবেন। আগামীতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি মানবিক, সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের গুলিবিদ্ধ হয়েছে ঢাকাতে সেই ছেলের পাশে আমি ছিলাম, তার পরিবার পাশে ছিল। সে যখন জেলে গেছে, আমি সম্পূর্ণ সহায়তা দিয়েছি। কিন্তু সেই ছেলে যদি অবৈধভাবে আরেকজনের জায়গা দখল করে, সেটা আমি কখনো সমর্থন করব না। রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে কেউ অন্যের সম্পত্তি দখল করতে পারে না। দুর্বৃত্তায়ন, সন্ত্রাস ও মাদক -এসবের কোনো প্রশ্রয় বিএনপি দেবে না, আমিও না।”
তিনি বলেন, যারা নির্যাতিত ও নিপীড়িত, তাদের পাশে থেকে কর্মসংস্থানসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে দুর্বৃত্তায়নকে তিনি কোনো অবস্থাতেই সমর্থন করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তার ভাষায়, “আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান পরিষ্কার করে বলেছেন -আগামীতে সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”
নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা খেয়াল রাখবেন, আপনার স্বামী কিভাবে আয় করছেন। তার আয়ের উৎস যদি সৎ হয়, তাহলে সমাজে দুর্নীতি ও অনৈতিকতা কমে যাবে। পরিবর্তন আনতে হলে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।” তিনি আরও বলেন, বিএনপির আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় রয়েছে ৩০ কোটি গাছ রোপণের মাধ্যমে দেশের তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি কমানো এবং প্রাকৃতিক বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি করা। প্রশাসনিক, ব্যক্তিগত ও জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবেশবান্ধব, মানবিক রাষ্ট্র গঠনে বিএনপি বদ্ধপরিকর।
এ উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিব বিশ্বাস, মোঃ জুলফিকার আলী, পংকজ বিশ্বাস, মোঃ মাহবুব, মোস্তাফিজুর রহমান জনি, মোঃ জিয়া, সোহেল বাবু ও ওমর ফারুক প্রমুখ। বক্তারা বলেন, বিএনপির ৩১ দফা শুধুমাত্র রাজনৈতিক ইশতেহার নয়, এটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ রক্ষার এক সমন্বিত রূপরেখা।
বক্তারা আরও আশা প্রকাশ করেন যে, বিএনপির এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।