মেঘনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মানিকারচর-ভাটেরচর সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলায় স্থানীয় জনগণ মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে বহুগুণে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মানিকারচর থেকে দড়িলুটেরচর হয়ে ভাটেরচর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার হয়। ১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার এই কাজটি পায় ‘চৌধুরী অ্যান্ড মাস্টার’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায় নি। সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ, ইট বালি ও সুরকি উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। বর্ষার সময় এসব গর্তে পানি জমে চলাচল আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। মোটরযান থেকে শুরু করে রিকশা ও অটোরিকশাও চলাচলে হিমশিম খাচ্ছে। দুর্ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।মেঘনা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হান্নান বলেন, “মানিকারচর-দড়িলুটেরচর পর্যন্ত অংশটি এলজিইডির আওতায় এবং দড়িলুটেরচর-ভাটেরচর পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়ক সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে। উপজেলা সদর থেকে দড়িলুটেরচর পর্যন্ত কিছুটা কাজ হলেও বাকি অংশে এখনো কাজ শুরুই হয়নি।” লুটেরচর গ্রামের শাহ আলম বলেন, “বৃষ্টির সময় রাস্তার গর্তে পানি জমে যেন ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হয়। প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটে, যানজট লেগে থাকে।”মানিকারচর গ্রামের আব্দুল বাতেন জানান, “সন্ধ্যার পর কেউ এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে চায় না। চারপাশ অন্ধকার, রাস্তায় গর্তÑ ঝুঁকি অনেক।” ভাওরখোলা গ্রামের সাহাবুদ্দিন বলেন, “ঢাকায় যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাইকে কষ্টে চলাচল করতে হচ্ছে।” একজন স্কুলছাত্র জানায়, “রাস্তার পাশে হাঁটার জায়গা নেই। অটোরিকশা গেলে গর্তের কাদা পানি ছিটকে জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।”স্থানীয় সিএনজিচালক আরিফ বলেন, “প্রতিদিন দুর্ঘটনা হয়। অসুস্থ রোগী নিয়ে যেতে হলে ভয় লাগে।” অটোচালক জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, “রাস্তাটা এত খারাপ যে গাড়ির নাট-বল্টু প্রায়ই খুলে যায়। সারাদিনের আয়ের একটা অংশ মেরামতে চলে যায়। আগে যেখানে ২০ মিনিট লাগত, এখন সেখানে ৪৫ মিনিট লেগে যায়।”এলজিইডির মেঘনা উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি মাত্র এক মাস হলো এখানে যোগ দিয়েছি। সড়কটি পরিদর্শন করেছি এবং দ্রুত কাজ শেষ করতে নিয়মিত তদারকি করছি। ইতোমধ্যে সাড়ে ৭ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে ২০২৬ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত।” অন্যদিকে, সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে থাকা দড়িলুটেরচর-ভাটেরচর অংশের বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ বিভাগের দাউদকান্দির গৌরীপুর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “সড়কটি আমাদের অধীনে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে। যদি আমাদের আওতায় পড়ে, তাহলে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে কাজের গতি বাড়ালে মেঘনা উপজেলার অন্যতম প্রধান এই সড়কটি আবারও চলাচলযোগ্য হয়ে উঠবে এবং জনদুর্ভোগ থেকে তারা মুক্তি পাবে।
গ্রাম-গঞ্জ-শহর
সড়ক নির্মাণে ধীরগতি চরম দুর্ভোগে মেঘনাবাসী
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মানিকারচর-ভাটেরচর সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলায় স্থানীয় জনগণ মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ না
Printed Edition