বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রায় দেড় লাখ গ্রাহক। এদিকে সরবরাহ না থাকলেও মাস শেষে মিটারে দ্বিগুণেরও বেশি বিল আসার অহরহ অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুৎ বাঁশখালী জোনের আওতাধীনে একটি পৌরসভা ও চৌদ্দটি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখের কাছাকাছি বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে, ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এগ্রাহকরা। গড়ে মিলিয়ে দৈনিক ৪ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে না। তবে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয় দ্বিগুণের অধিক, এমন অভিযোগ বাঁশখালীতে দীর্ঘদিনের হলেও অদ্যবধি পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাচ্ছে না গ্রাহকরা। কারণে অকারণে অঘোষিতভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে রাখা হলেও দেখার কেউ নেই।
উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলম, মো. ইলিয়াস, নাছির উদ্দীন,ওমান প্রবাসী আনোয়ারুল ইসলাম, সৌদি প্রবাসী আবুল কালাম (শহীদ), মাহবুবুর রহমান, শেখেরখীলের হারুন সওদাগর, কালীপুরের মিনহাজ উদ্দিন, সরওয়ার আলমসহ অন্তত অর্ধশতাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, সংসারের খরচ জোগাতে সারাদিন কাজ করে রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারছেনা মানুষ। কারণে-অকারণে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। তাছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকাংশ গভীর-অগভীর প্রায় নলকূপ থেকে বিদ্যুৎ চালিত মোটর ছাড়া মেলেনা সুপেয় পানি। অঘোষিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে সুপেয় পানির সংকট পোহাতে হয় বাঁশখালীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলেও মাস শেষে মিটারে বিদ্যুৎ বিল আসে দ্বিগুণের অধিক। বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া মিটার এতো বিল কীভাবে আসে তারো কোনো সদুত্তোর নেই কারো কাছে। এমনকি বিদ্যুৎ অফিসেও।
এছাড়াও মিটার আবেদন করতে গেলেও নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে মানুষ। মিটার প্রতি ৪-৫ হাজার টাকা খরচ করে মিটার আবেদন করা হলেও মিটার পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়, এতে অফিসে সার্ভিস তার না থাকাসহ দেখানো হয় নানা অজুহাত। অনেক সময় নিজ খরচে সার্ভিস তার কিনতেও গ্রাহকদের বাধ্য করা হয়। নিজ খরচে ক্রয়কৃত সার্ভিস তার বাবত খরচ হওয়া টাকা পরবর্তীতে মাসিক বিদ্যুৎ বিলের সাথে সমন্বয় করার কথা বলা হলেও তাও করা হয়না, উক্ত টাকা গ্রাহকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এ সমস্যা সমাধানের জন্যে বিদ্যুৎ অফিসের শরণাপন্ন হলেও কোনো সুরাহা পাচ্ছে না সেবা বঞ্চিতরা। বিদ্যুৎ অফিসের কাছে অনেকটা অসহায় গ্রাহকরা। বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এমন হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।
তবে এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বাঁশখালী (ডিজিএম) মো. আতিকুর রহমানের এর সাথে যোগাযোগ করা হলে বাঁশখালীতে লোডশেডিং থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, গাছ-কাটা বা অন্যকোনো ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হলে তা গ্রাহকদের অবগতির জন্য অফিস আইডি থেকে মেসেজ করা হয়। তবে আপাতত লোডশেডিং নেই। মিটার সার্ভিস তার গ্রাহকদের কিনতে হবে কেন? মিটারে বিল বেশি আসার কারণ কী? তা জানতে চাইলে, সার্ভিস তার গ্রাহকেরা কিনে দিলে খরচটা পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিলের সাথে সমন্বয় করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি এখন আমার মেয়েকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসছি, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলে অফিসে আসতে হবে।