নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা : শেরপুরের নালিতাবাড়িতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অবিরাম ভারী বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় প্রদেশ থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ভোগাই, চেল্লাখালী, মালিঝি ও পার্শ্ববর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার শমেম্বরী মহারশ্বি কাটাখালী সহ সব কয়টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোগাই নদীর পানি নালিতাবাড়ি উপজেলার রাবারবাধ কামব্রিজ পয়েন্টের বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরর্বতী গ্রামগুলো ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পুকুর ডুবে গিয়ে ভেসে গেছে মাছ। শত শত হেক্টর জমির ফসল ও আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নষ্ট হচ্ছে পটল, ঝিঙ্গা, চিচিংগা ও মরিচ সহ নানা রকম সবজি ক্ষেত। সেই সাথে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া অতিবর্ষণে বেশ কিছু কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে। ফলে দূরভোগে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের মানুষ। এছাড়া নালিতাবাড়ি উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের বালোঘাটা, কলসপাড়, তারাকান্দি, সূর্যনগর, নাকশী, পিপলস্বর, যোগানিয়া ইউনিয়নের কাপাশিয়া, বাথুয়ারকান্দা, কুতুয়ামারা, ঘোড়ামারা, যোগানিয়া, গেড়ামারা, উজানগাংপাড়, ভাটিগাংপাড়, কান্দাপাড়া, তালুকপাড়া, মরিচপুরান ইউনিয়নের মরিচপুরান, ফকিরপাড়া, কয়ারপাড়, উল্লারপাড়, খলাভাঙ্গা, দক্ষিণ কোন্নগর সহ হাজার হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। এতে ২য় দফা দীর্ঘমেয়াদি বন্যার আশংকা করেছে ভুক্তভোগীরা। কলসপাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ. মজিদ বলেন, আমার ইউনিয়নে ৬টি গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানানো হয়েছে। এদিকে নালিতাবাড়ি খরস্রোতা চেল্লাখালী নদীতে লাকড়ি ধরতে গিয়ে স্রোতের তোরে ভেসে গেছে হুমায়ন (১০) নামের এক শিক্ষার্থী। পানিতে ভেসে যাওয়া শিক্ষার্থীর মরদেহ গতকাল (১৮ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে ৮টার দিকে চেল্লাখালী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামের দুলাল মিয়ার পুত্র এবং পার্শ্ববর্তী ঝিনাইগাতী ডাকাবর গ্রামে আব্দুল্লাহর ছেলে ইসমাইল (১৭) তামাগাঁও এলাকা থেকে পাহাড়ি ঢলে নদীতে ভেসে আসা গাছ ধরতে গিয়ে নিখোজ হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে ঝিনাইগাতী শহরের ব্রিজ এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী।