এম এ কাইয়ুম চৌধুরী, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা : আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের জীবনধারায় এসেছে বিপুল পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের ধারায় নতুন অনেক কিছু যেমন যুক্ত হয়েছে মানুষের জীবনে, তেমনি অনেক কিছু হারিয়েও গেছে। একটা সময় পর্যন্ত রাতের অন্ধকার দূর করতে মানুষের অন্যতম অবলম্বন হারিকেনের স্থানও সেই হারিয়ে যাওয়ার দলে। যে হারিকেন এক সময় গ্রামীণ জনপদে ছিল আলোর একমাত্র উৎস, সেই হারিকেনকেই যে আজ ‘হারিকেন জ্বালিয়ে খোঁজা’র পরিণতি বরণ করতে হয়েছে।

অন্ধকার ঘরকে আলোকিত করা, রাতের বাজারে দোকানদারি করা, এমনকি রাতে চলাফেরা করার জন্যও হারিকেন ছিল গ্রামের মানুষের একমাত্র অবলম্বন। সন্ধ্যা হলেই হারিকেন নিয়ে পড়তে বসত শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎসংযোগের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক বাতিসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেই প্রয়োজন ফুরিয়েছে সেই হারিকেনের। তা এখন পরিণত হয়েছে স্মৃতিতে। এ যুগের শিশু-কিশোরদের কাছে হারিকেন কেবলই হারিয়ে যাওয়া অতীতের কোনো স্মৃতিচিহ্ন।

হারিকেন জ্বালানোর স্মৃতি বর্ণনা করে মানিক গঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার কাস্টসাগড়া গ্রামের বয়োবৃদ্ধ ছিতাব আলী বলেন, ‘ছোটবেলায় সন্ধ্যার আগে আগে হারিকেনের কাচের চিমনি খুলে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করতাম। তারপর কেরোসিন তেল ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন জ্বালাতাম। হারিকেনের কেরোসিন তেল রাখার জন্য গ্রামের সব বাড়িতেই কাচের বোতলের গলায় রশি লাগিয়ে বাঁশের খুঁটিতে ঝুলিয়ে রাখা হতো।’

আরিচাঘাট এলাকার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলায় আমরা ল্যাম্প কিংবা হারিকেনের মৃদু আলো জ্বালিয়ে ছাত্রদের লেখাপড়া করিয়েছি। বাতাসের ঝাপটায় কখনো কখনো আলো নিভে যেত। আবার দিয়াশলাই বা চুলা থেকে পাটকাঠি দিয়ে আগুন নিয়ে হারিকেন জ্বালাতে হতো।’

একই এলাকার রিকশা চালক চান মিয়া বলেন, ‘আগেও রিকশা চালাতাম। তখন রাস্তাঘাটে এখনকার মতো ল্যাম্পপোস্ট ছিল না। তাই রাতে রিকশার নিচে লেমটন (হারিকেন) লাগিয়ে রাখতাম পথ দেখার জন্য। এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কেরোসিন ভরলে সারারাত চলে যেত। এখন তো ব্যাটারি রিকশা চালাই। রিকশার সামনে লাইট থাকে, তার আলোতে পথ চলি। লেমটন (হারিকেন) এখন হারিয়ে গেছে।’

শিবালয় উপজেলার টেপড়া বাজারের স্থানীয় বযবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, ‘১৫-২০ বছর আগে সন্ধ্যায় হারিকেন জ্বালানোর জন্য কেরোসিন তেল নিতে মানুষের সিরিয়াল লেগে যেত। এখন হারিকেন তো বটেই, বাজার ঘুরে কেরোসিন তেল খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। কোনো কোনো বাড়িতে জঞ্জালের ভিড়ে হয়তো মরিচা পড়া জীর্ণ চেহারার হারিকেনের দেখা মিলতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে হারিকেন হারিয়েই গেছে। নতুন প্রজন্মের কেউই হয়তো হারিকেন চোখেই দেখেনি। একসময় হয়তো জাদুঘরে শুধু দেখা মিলবে, হয়তো বইয়ের পাতায় উল্লেখ থাকবে হারিকেনের।

বাগমারায় বিদেশ পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। ভাল বেতনে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে চার লক্ষ টাকা নিয়ে চাকুরির ভিসা না দিয়ে ভ্রমণ ভিসা দিয়ে তাকে দুবাই পাঠায়ে প্রতারণা করেছেন বলে দাবি করেছেন উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের আব্দুল মানিকের ছেলে সাগর আহম্মেদ। টাকা ফেরত পেতে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও মামলা করলে প্রতারণার মামলা থেকে বাঁচতে উল্টো তাকেই (সাগর আহম্মেদ) আদম ব্যাপারী আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে ভাড়াটিয়া লোক দ্বারা হয়রানীমূলক মামলা দিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাগর আহম্মেদ দাবি করেন, ঢাকায় পিবিআই অফিসে কর্মরত এএসআই সাদ্দাম হোসেন বাগমারার গণিপুর গ্রামের সানাউল্লার ছেলে। উভয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা ও বাগমারা পাইলট স্কুলে পড়ালেখা করেছেন। এসআই সাদ্দাম হোসেন ঢাকায় চাকুরি করেন অনেক বড় লেভেলে তার জানাশোনা। বন্ধুর (সাগর) বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে মানিকগঞ্জের জনৈক এক এমপির মাধ্যমে তাকে দুবাই পাঠিয়ে কর্মসংস্থান ব্যবস্থার কথা জানায় সাদ্দাম হোসেন। পরবর্তিতে সকল প্রক্রিয়ার মধ্যমে চার লক্ষ টাকা নিয়ে দুবাই ‘নিদাহাদি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস’ কোম্পানিতে ভাল বেতনে চাকরী দেয়ার নামে বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু সে চাকুরীর ভিসা না দিয়ে ভ্রমণ ভিসা দিয়ে তাকে দুবাই পাঠানো হয়। সেখানে মাত্র পাঁচ মাস থাকার পর দেশে ফিরতে বাধ্য হয়। বিদেশে প্রতারণার বিষয় বার বার তাকে তাগিদ দিয়ে কোন লাভ হয়নি। এ কারণে তিনি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনে এএসআই সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। কিন্তু মামলা করার পর থেকেই এএসআই সাদ্দাম হোসেন ও তার পক্ষের লোকজন মামলা তুলে নিতে তার পরিবারের সদস্যদের উপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তাছাড়া মামলা তুলে না নিলে তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া এএসআই সাদ্দাম হোসেন প্রতারণার মামলা থেকে বাঁচতে উল্টো তাকেই (সাগর আহম্মেদ) আদম ব্যাপারী আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে ভাড়াটিয়া লোক দ্বারা হয়রানীমূলক মামলা দিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।