শাহজাহান, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) : চলনবিল অধ্যাষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মাছ ধরার চাঁই (খলসুনি) বিক্রির ধুম পড়েছে। এ বছর চলনবিলে পানি আসতে শুরু করেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকাসহ চলনবিলের মাঠ ডুবে যাচ্ছে। মাছ ধরার এক ধরনের যন্ত্রের নাম খলসুনি। কেউ কেউ স্থানীয় ভাষায় ধুন্দী বা চাঁই বলে থাকে। এই যন্ত্র বাঁশ ও তালের আঁশ দিয়ে তৈরি করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করছেন কারিগররা।

তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ হাট, গুল্টা হাট, রায়গঞ্জের নিমগাছীর হাট, সলঙ্গা হাট, চাটমোহর, ছাইকোলা হাট, মির্জাপুর হাট, নাটোরের গুরুদাশপুর হাট, চাচকৈড় হাটসহ অন্যান্য হাটে বিক্রি হয় মাছ ধরার চাঁই। এসব হাটে পাইকারি ও খুচরা ক্রয়-বিক্রয় হয় চাঁই। নওগাঁ হাটে চাঁই নিয়ে এসেছেন জুব্বার আলী। তিনি বলেন, এক জোড়া খলসুনি তৈরিতে সময় লেগে যায় প্রায় দুই-তিন দিন। উপকরণ বাবদ খরচ হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রতিজোড়া চাঁই ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণত বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের মানুষের তেমন কোন কাজ থাকে না। তাই তারা মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ব্যবসায়ী বায়েজিদ আলী জানান, তারা প্রথমে বাঁশ চিরে খিল তুলে চিকন করে। সেগুলো শুকিয়ে নেওয়া হয় হালকা রোদে। পঁচানো তালের ডাগুরের আঁশ দিয়ে খিল বান দেওয়া হয়।

উপজেলার ধামাইচ গ্রামের আসমত আলী জানান, তার গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার চাঁই তৈরির কাজে জড়িত। আর আকারভেদে প্রতিজোড়া খলসুনির দাম ৮০০-১ হাজার টাকা। কখনও কখনও এর চেয়েও বেশি। আকারের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয় দাম।