রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আইইউজিআইপি এর আওতায় কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে সরবরাহকৃত আধুনিক বর্জ্য পরিবহন গাড়িগুলো এখনও একদিনের জন্যও ব্যবহার করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে খেলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় সেগুলোর চারপাশে গজিয়েছে আগাছা, ধুলাবালিতে বর্তমানে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি গাড়ির গায়ে স্পষ্টভাবে লেখা রায়পুর পৌর-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আইইউজিআইপি এলজিইডি। কিন্তু বাস্তবে একটিও কাজে লাগানো হয়নি। অথচ এসব গাড়ির মাধ্যমে শহরের বর্জ্য অপসারণে দ্রুততা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার কথা ছিল।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, রায়পুর পৌরসভায় বর্তমানে পড়ে থাকা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে হ্যান্ড ট্রলি ১০টি, ৩ চাকার গারবেজ ভ্যান ৫টি, টরুক-মাউন্টেড ভ্যাকুয়াম ক্লিনার (২ টন) ১টি, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ট্রাক (১.৫ টন) ১টি, গারবেজ ডাম্প ট্রাক (১.৫ টন) ১টি, গারবেজ ডাম্প ট্রাক (২ টন) ১টি।

সব মিলিয়ে কোটি টাকার বেশি মূল্যের এই যানবাহনগুলো পড়ে রয়েছে অব্যবহৃত অবস্থায়, যা প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং পরিকল্পনাহীনতার প্রমাণ দেয়। স্থানীয়রা বলছেন, আধুনিক এই গাড়িগুলোর কার্যকর ব্যবহার হলে শহরের পরিবেশ অনেক পরিষ্কার ও বাসযোগ্য হতো। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে তারা এখন নিজেই ‘আবর্জনায় ঢাকা বর্জ্য বাহন’ হয়ে উঠেছে। রায়পুর পৌরবাসীদের অভিমত, এত দামি গাড়ি এনে ফেলে রাখা একেবারেই অনুচিত। আমরা বারবার দাবি জানিয়েছি যেন এগুলো মাঠে নামানো হয়। বর্জ্য অপসারণ অব্যবস্থাপনায় পরিবেশ দূষণ দিন দিন বেড়েই চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান খান বলেন, গাড়িগুলো কিছু জটিলতার কারণে ব্যবহার শুরু করা যায়নি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এই গাড়িগুলো ব্যবহার শুরু করবো। উল্লেখ্য, এ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (অউই), ফ্রেঞ্চ এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট এবং বাংলাদেশ সরকার। এর উদ্দেশ্য ছিল একটি আধুনিক, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।