সাইফুদ্দীন আল মোবারক, টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা জুড়ে নিত্যদিনের লোডশেডিং এখন সাধারণ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, কৃষক, হাসপাতালের রোগীসহ অনেকসময় প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যন্ত চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ভোগান্তির মূল কারণ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অব্যবস্থাপনা, উদাসীনতা ও চরম গাফিলতিকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার অভিযোগ তুলে সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তুলছেন অনেকে। তবে এসবে কর্ণপাত করেন না টেকনাফের পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম।

পৌর শহরের থেকে গ্রাম এলাকার অবস্থা আরো খারাপ। দিনরাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না, কিছু সময় থাকলেও একেবারেই লো ভোল্টেজে চলে। ঘুরে না ফ্যানের পাকা। মাঝেমধ্যে গাছ কাটা বা লাইন ক্লিয়ারের অজুহাতে সারাদিন বিদ্যুৎ বন্ধ রাখে। অনেক লাইন ছিঁড়ে পড়ে, ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যায়, অথচ তা মেরামতে দ্রুত কোনো উদ্যোগ নেয় না। ফোন করলে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকসময় ফোন ধরেন না। মাঝেমধ্যে ফোন ধরলেও সাধারণ নাগরিকের অভিযোগের কথা না শুনে ফোনের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এদিকে হালকা ঝড়-বাতাস শুরু হলেই বিদ্যুৎ নিয়ে যায়। বলা যায়, এক প্রকার অন্ধকারেই জীবন চলছে টেকনাফের বাসিন্দাদের। টেকনাফ অঞ্চলের মানুষ যেন ফের হারিকেনের যুগে বসবাস করছেন !

এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা জানান, একদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই, আরেকদিকে বাড়তি বিল পাঠানো হচ্ছে। নির্ধারিত ইউনিটের চেয়ে বেশি ইউনিট দেখিয়ে বিল চাপিয়ে দিচ্ছে অনেক গ্রাহকের ঘাড়ে। কেউ অভিযোগ করতে গেলেও পাত্তা দেয় না কর্তৃপক্ষ।

“হ্নীলা হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক এন্ড ডক্টরস চেম্বারের পরিচালক (প্রশাসন) আলমগীর সালাম পুলক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, টেকনাফের মানুষ পল্লী বিদ্যুৎ নিয়ে চরম হতাশ। বর্তমান যুগে বিদ্যুৎ ছাড়া প্রতিটি স্তর প্রায় অচল!

একবারের জন্যও যদি সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ হতো, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে কৃষি, ব্যবসা, চিকিৎসা সব খাতে গতি আসত। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ যেন নিজেদের দায় স্বীকার করতেই চায় না। আমাদের হাসপাতালের রোগী ও বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে এক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আমরা অতি দ্রুত এসবের অবসান চাই।” হাফেজ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, টেকনাফের মানুষ সবচেয়ে বেশি অসহায়! আমরা সব সুযোগ সুবিধা থেকেই বঞ্চিত! অথচ লাখ লাখ রোহিঙ্গা থাকার স্থান এই টেকনাফ। বিদ্যুত বিহীন জীবন অতিষ্ঠ! গরমে মানুষ খুবই ক্লান্ত, বিদ্যুৎ থাকলে অন্তত মানুষ হাফ ছেড়ে বাচত! জানতে চাইলে লোডশেডিংয়ের বিষয়ে লাইনের ফল্ট ও ভৌগোলিক অবস্থানকে দোষারোপ করে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম জসিম উদ্দিন বলেন, লাইনে ফল্ট হলে ঠিক করতে দুই তিন ঘন্টা সময় লেগে যায়, দীর্ঘ লাইনের কারণে ভোল্টেজ কম থাকে। রিডিং না দেখে ভুতুড়ে বিল তোলার কথা জানতে চাইলে, তা সংশোধনের সুযোগ আছে এবং সবকিছুর সুরাহা আছে, কোনো কিছু ইচ্ছা করে করেন না বলে জানান তিনি।