মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মংলা থেকে: বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের পশুর নদে ৯১৪ মেট্রিক টন ফ্লাইঅ্যাশ (সিমেন্টের কাঁচামাল) বহনকারী ‘এমভি মিজান-১’ কার্গো জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর এখনও পর্যন্ত কোনো উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় চিহ্নিতকরণ (মার্কিং) বা জাহাজ থেকে বিপজ্জনক পদার্থ অপসারণের কাজেও কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না মালিকপক্ষের তরফে।

ফলে পরিবেশবিদ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পশুর নদের জলজ জীববৈচিত্র্য এবং দুর্ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

দুর্ঘটনার ফলে ওই নৌপথে চলাচলকারী অভ্যন্তরীণ ছোট-বড় সব ধরনের নৌযানের জন্য পরিস্থিতি হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, চ্যানেল এখনও স্বাভাবিক ও নিরাপদ রয়েছে এবং নৌযান চলাচলে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ‘এমভি মিজান-১’ জাহাজের মাস্টার মো. বিল্লাল হোসেন শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় দৈনিক সংগ্রামকে জানান, উদ্ধার কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে তারা তৎপর রয়েছেন। ইতোমধ্যে ঢাকা ও মোংলার দুটি ডুবুরি দলের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে এবং চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় খুলনার দাকোপ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

পরিবেশবিষয়ক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বাগেরহাট জেলা আহ্বায়ক নুর আলম শেখ বলেন, “ফ্লাইঅ্যাশ মূলত কয়লার বর্জ্য, যাতে পারদ, মার্কারি এবং সীসার মতো ক্ষতিকর উপাদান থাকে। এগুলো নদীর পানিতে মিশে গিয়ে জলজ প্রাণী হত্যা করতে পারে এবং এর প্রভাবে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়বে। এই ধরণের পরিবেশবিধ্বংসী দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।”

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৭ জুন) ভোর ৬টার দিকে মোংলা নদী ও পশুর নদের সংযোগস্থলের চরে ‘এমভি মিজান-১’ নামক কার্গো জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজটি পশুর চ্যানেলে নোঙর করা অবস্থায় ‘এমভি কে আলম গুলশান-২’ নামে একটি লাইটার কার্গো জাহাজ এর ওপর উঠে গেলে সংঘর্ষের ফলে ‘মিজান-১’ ডুবে যায়।

জাহাজটিতে ৯১৪ মেট্রিক টন ফ্লাইঅ্যাশ বোঝাই ছিল, যা ভারতের কলকাতার ভেন্ডেল এলাকা থেকে সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জের বসুন্ধরা ঘাটে যাওয়ার পথে মোংলা বন্দরে যাত্রাবিরতিকালে দুর্ঘটনার শিকার হয়।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মো. মাকরুজ্জামান জানান, যদিও দুর্ঘটনাটি পশুর নদীর একটি চরে ঘটেছে, তবুও মূল বন্দর চ্যানেল পুরোপুরি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রয়েছে এবং নৌযান চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি।