ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা : বর্ষা মৌসুম আসার আগেই আতঙ্কিত পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর নদীপারের মানুষ। টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় এবং ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ পুনঃসংস্কার না হওয়ায় প্রতিবছরই জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসে বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে ক্ষতি হয় ফসল, মাছের ঘেরসহ মানুষের জানমালের। তাই বর্ষার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। ছোট বড় তিনটি নদী দিয়ে তিন দিক থেকে বেষ্টিত এই উপজেলা। আর এ নদীগুলোকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে লোকালয় হাট-বজার ছোট ছোট শিল্পকারখানা। ফলে এ উপজেলার অর্থনীতিতে যেমন নদীর রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা, ঠিক তেমনি বর্ষা মৌসুমে এর বিরূপ প্রভাবও পড়ে অর্থনীতিসহ সার্বিক জীবনে। বর্ষা মৌসুমে যখন এসব নদীতীরবর্তী এলাকার পানি নামতে শুরু করে তখন নদীর স্রোত আরও বেড়ে যায়। ফলে ভাঙতে শুরু করে নদীর দুই পাড়, হাটবাজার লোকালয় এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘরও। বিগত সময়ে অনেক এলাকার বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা থাকায় (পুনঃসংস্কার না হওয়ায়) এবং প্রয়োজনীয় স্থানে বেড়িবাঁধ না থাকায় বর্ষা মৌসুম আসার আগেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন নদীর পাড়ের মানুষ। উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের টগড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল শেখ বলেন, সিডরের সময় বেড়িবাঁধ ভেঙেছে। এরপর এখন পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত আমরা জোয়ারের পানিতে ভাসি এবং দুর্বিষহ জীবনযাপন করি। সিডরের সময় বালিপাড়া, চন্ডিপুর, ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের প্রায় ৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা এখন পর্যন্ত মেরামত করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমের আগে এসব বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না গেলে ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবারের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এদিকে কচা, পানগুছি ও বলেশ্বর নদীর পাড়ের কয়েক হাজার পরিবারের দুশ্চিন্তার কারণও এলাকার ভাঙা ও দুর্বল বেড়িবাঁধ। তা ছাড়া বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে ফসল ও মাছের ঘের তলিয়ে যায়। এ ছাড়া সামান্য জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় ইন্দুরকানী উপজেলার লোকালয়। ডুবে যায় ফসলের ক্ষেত ও যাতায়াতের পথ। পানির চাপে ভেঙে যায় বসতঘরের মাটির তৈরি মেঝে। এতে বন্ধ হয়ে যায় স্কুলগামী শিশুশিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া। সব মিলিয়ে বেড়িবাঁধ সংকটে দিশাহারা স্থানীয়রা। জানা গেছে, উপজেলার কঁচা, বলেশ্বর ও পানকুচি নদীর উপকূলবর্তী লাহুরী, বাড়ৈখালী, টগড়া, পাড়েরহাট, উমেদপুর, চাড়াখালী, কালাইয়া, সাঈদখালী, ঢেপসাবুনিয়া, বালিপাড়া, চন্ডিপুর, খোলপটুয়া, চরবলেশ্বর, সন্যাসী এলাকায় প্রায় দুই লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। ঝড়-জল এলেই তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে জলোচ্ছ্বাসে আক্রান্ত হন তারা। ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবের পর থেকে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন উপকূলবাসী। এমন পরিস্থিতিতে তাদের দাবি টেকসই উঁচু বাঁধের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পিরোজপুর এর নির্বাহী কর্মকর্তা নুসাইর হোসেন জানান, মানুষের জীবনমাল রক্ষায় বেশকিছু নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। আর জেলার ৬টি পোল্ডারের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য প্রয়োজন ২ হাজার কোটি টাকা। বরাদ্দ পেলে ক্ষতিগ্রস্ত বাকি বেড়িবাঁধগুলোও মেরামত করা হবে। তিনি জানান, পিরোজপুরে ৩১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে যার মধ্যে ৫৫ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ।
গ্রাম-গঞ্জ-শহর
ইন্দুরকানীতে সংস্কার নেই ভাঙা বেড়িবাঁধের বর্ষা এলেই উদ্বেগ বাড়ে নদীপারের মানুষের
বর্ষা মৌসুম আসার আগেই আতঙ্কিত পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর নদীপারের মানুষ। টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় এবং ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ পুনঃসংস্কার না হওয়ায় প্রতিবছরই জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসে বিস্তীর্ণ এলাকা
Printed Edition