শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা : বাংলাদেশের বৃহত্তর স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসে গত চারদিন ধরে চলছে কর্মবিরতি । বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানকে অপসারণ ও জারিকৃত বদলি আদেশ বাতিলের দাবিতে চতুর্থ দিনের মত কলমবিরতি পালন করেছে বেনাপোল কাস্টমস হাউস।
এনবিআর সংস্থার ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দাবির সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করে চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন কাস্টমস হাউসের সকল কর্মকর্তাবৃন্দ। তবে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত কাস্টম হাউসের সকল কার্যক্রম চালু ছিল। এ ছাড়া আমদানি , রপ্তানি ও বেনাপোল ইমিগ্রেশনের সকল কার্যক্রম ও যাত্রীসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সূত্র থেকে জানা যায়, গত সোমবার সকাল ৯ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত , বুধবার ও বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত গত ৪ দিন ধরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কার্যক্রম বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করছে কর্মকর্তাবৃন্দ। বিরতির সময় কিছু কিছু কর্মকর্তারা হাউসে থাকলেও তারা কোন শূল্কায়নের কাজ করছেন না। অনেককে কর্মস্থলে না এসে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, এনবিআরের নির্দেশনায় তাদের দাবি আদায়ের জন্য কর্মবিরতি পালনের সময় এনবিআর কাস্টমস হাউসের সকল সার্ভেয়ার ও নেটওয়ার্ক বন্ধ করে রেখেছে। যে কারণে কর্মবিরতির সময় বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কোন সিএন্ডএফ এজেন্ট তাদের পেপার এন্ট্রি করতে পারেনি। কর্মবিরতির সময় শেষ হলে পুনরায় এনবিআর তাদের সার্ভেয়ার ও নেটওয়ার্ক চালু করছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেনাপোল স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির কারণে বেনাপোল বন্দরে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সি এন্ড এফ তাদের পণ্য পরিবহন করতে অফিসারের স্বাক্ষর করাতে পারছে না। কারণ কর্মবিরতির জন্য অফিস সময়ে তারা কাজ করছে না। এজন্য পণ্য খালাসে গেট পাস না পাওয়ায় শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাক বন্দরে আটকা পড়ছে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেনাপোল সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব খায়রুজ্জামান মধু বলেন গত ৪দিন ধরে বেনাপোল কাস্টমন হাউসে কর্মবিরতির কারণে ব্যবসায়ীকভাবে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকে তাদের জরুরী পণ্যের শুল্কায়ন করতে পারছেনা। তিনি বলেন একদিকে কাস্টমসের দাবি মানার আন্দোলন। অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব এনবিআর ও সরকার আলোচনা করে সমস্যার সমাধান না করলে আগামী অর্থ বছরের রাজস্ব আদায় পূরণে ঘাটতি দেখা দেবে বলে তিনি মনে করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেনাপোল কাস্টমস হাইসের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন উপরের নির্দেশে তারা তাদের কর্মসূচি পালন করছে। তাদের কিছু বলার নেই। উপরি মহল নির্দেশ দিলে তারা কর্মবিরতি তুলে নিবেন বলে জানান। তিনি আরও বলেন তাদের দাবি না মানলে আগামী ২৮ জুন থেকে লাগাতার শাটডাউন কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে।