মোঃ হানিফ সরদার, গৌরনদী (বরিশাল) : দক্ষিণ অঞ্চলে যাতায়াতের বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক বেহাল দশায় প্রায় ৪৫ কিলোমিটার সড়ক টানা বর্ষণে জনদুর্ভোগ চরম সীমায়। মহাসড়কের অধিকাংশ এলাকায় খানাখন্দ আর ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এতে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তির পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পাশাপাশি বর্ষণে অধিকাংশ কার্পেটিং সড়ক চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পরেছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ২৬টি রুটে যাতায়াতের একমাত্র বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কটি দীর্ঘদিন থেকে ছয়লেনে উন্নীত করার দাবি করে আসছেন দক্ষিণাঞ্চলবাসী। সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, মহাসড়কের ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটি ছয়লেনে উন্নীত করা কিন্তু রাস্তা সংস্কার না করেই তড়িঘড়ি করে পদ্মা সেতু চালু করা হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কে আগের চেয়ে বহুগুণ যানবাহন চলাচল করছে।
এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা যানান, মহাসড়কে তিন চাকার মাহিন্দ্র অটো রিকসা বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে সাথে যানবাহন বৃদ্ধি পাওয়ায় ও মহাসড়কে দূরপাল্লার পরিবহনের প্রতিযোগিতা এবং বেপরোয়া গতিতে ওভারট্রেকিংয়ের কারণে প্রায় প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানীর ঘটনা বেড়েই চলছে। তারা আরও বলেন, কয়েকদিনের ভারী বর্ষায় মহাসড়কের অধিকাংশ এলাকা এখন খানাখন্দ ও ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের কারণে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বরিশাল নতুল্লাবাদ বাসটার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও বিটুমিন ওঠে মহাসড়কের মধ্যে গর্ত হয়েছে। ফলে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ব্যস্ততম এ মহাসড়কটি। গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডের জিরো পয়েন্টের মহাসড়কের বিটুমিন উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত এব্রো থেব্রো উচু নিচু খানা খন্দে ভরা।এ রুটে চলাচল করা পরিবহন চালক সোহাগ হাওলাদার বলেন, বিটুমিন উঠে যাওয়ার কারনে গর্ত হয়ে যায়। নি¤œমানের ইট বিছিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তাও উঠে গেছে। ফলে ওইসব জায়গা এখন চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এছাড়া রাস্তার বিভিন্নস্থানে উঁচু-নিচু টিউমারের মতো ঢেউ উঠেছে। যা যানবাহনের গতিকে প্রভাব ফেলছে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাড়ির চাকা গর্তে পরলে হঠাৎ ব্রেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
এছাড়াও গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড, মদিনাস্ট্যান্ড, দক্ষিণ বিজয়পুর, আশোকাঠী, কাসেমাবাদ, বেজহার, মাহিলাড়া, বাইচখোলা, বাটাজোর, কবিবাড়ি, বামরাইল, সানুহার ও জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ড এলাকার মহাসড়কে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানচলাচল চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মাঝে মধ্যে মহাসড়কের এসব গর্তে সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে নামেমাত্র ইটের টুকরো ফেলে মেরামতের চেষ্টা করা হলেও কয়েকদিনের ব্যবধানে ওইসব ইটের টুকরো উঠে গিয়ে আবার পুরনো রূপে ফিরে যায় মহাসড়কের দুর্ভোগ। এ রুটে প্রতিনিয়ত চলাচল করা দূরপাল্লার পরিবহনের চালক, স্টাফ ও সচেতন মহল মনে করছেন, মহাসড়কটি দীর্ঘবছরের পুরনো। বর্তমানে প্রতিনিয়ত চলাচলকরা হাজার হাজার যানবাহনের ধারণ ক্ষমতা নেই মহাসড়কের। যে কারণেই সংস্কার কাজ স্থায়ীত্ব হচ্ছে না। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটি ছয়লেনে উন্নীত করার জন্য গোটা দক্ষিণাঞ্চলবাসী সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মহাসড়কের সক্ষমতা হারানো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সংস্কার কাজ চলতেছে।