আনোয়ারা (কর্ণফুলী) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নাগরিক সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে ডুমুরিয়া ও রূদুরা গ্রামকে চাতরী ইউনিয়নের পরিবর্তে আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। রবিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে ডুমুরিয়া-রূদুরা সর্বস্থরের জনসাধারণের বিভিন্ন ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রশাসনিকভাবে ডুমুরিয়া ও রূদুরা গ্রাম চাতরী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হলেও, বাস্তবিক যোগাযোগ, নাগরিক সেবা এবং জনদুর্ভোগের দিক বিবেচনায় এটি অযৌক্তিক। ভৌগোলিকভাবে দুই গ্রামই আনোয়ারা সদর ইউনিয়ন কার্যালয়ের খুব কাছাকাছি মাত্র ২০০ গজ দূরে। অথচ স্থানীয় বাসিন্দাদের নাগরিক সেবা নিতে প্রতিদিন প্রায় চার কিলোমিটার দূরের চাতরী ইউনিয়ন কার্যালয়ে যেতে হয়, যা একেবারেই অযৌক্তিক ও ভোগান্তিকর।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এই অস্বাভাবিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা যেন এখনো পাকিস্তান আমলের বিভাজন নীতিরই প্রতিচ্ছবি। তারা বলেন, ডুমুরিয়া ও রূদুরা গ্রামের মানুষ প্রতিদিন প্রশাসনিক দুর্ভোগে পড়ছেন। চাতরীর পরিবর্তে এই দুটি গ্রামকে যদি পার্শ্ববর্তী আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে নাগরিক সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে এবং বছরের পর বছর ধরে চলে আসা দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এতে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস করে ডুমুরিয়া ও রূদুরা গ্রামকে আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
অনলাইনে ডলার ইনভেস্টমেন্টের নামে প্রতারণা ॥ দুই ভাই আটক
নেত্রকোনা সংবাদদাতা : নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় অনলাইনে ডলার ইনভেস্টমেন্টের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই ভাইকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। এ ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলা ও নেত্রকোনা জেলা এন এস আই এর গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে গতকাল রবিবার (১৬ জুন) রাত ৯টার দিকে আশুজিয়া ইউনিয়নের চান্দপাড়া গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়।
আটককৃতরা হলেন, মৃত আব্দুল জাহেদের দুই ছেলে—আরিফুল হক (৪৩) ও শরিফুল হক (৩২)। তাদের বিরুদ্ধে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বড় পরিসরে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে তাদের মোবাইল ফোনসহ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।তবে প্রধান অভিযুক্ত মাসুদুল হাসান সৈকত (৩০) পিতা-মঞ্জুরুল হক পালিয়ে যায়।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার মামলা রুজু হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ‘ট্রেজার ঘঋঞ’ নামে একটি অনলাইন ভিত্তিক স্কিম চালু করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে। তাদের প্রতারণার জাল কতদূর বিস্তৃত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় কেন্দুয়া থানায় ভবানীপুর গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম (২০) নামের এক যুবক বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ‘ট্রেজার ঘঋঞ’ প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন ১.৮% হারে লভ্যাংশ ও রেফারেন্স ইনকামের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে মোট ৮৪,৫০০ টাকা বিনিয়োগে বাধ্য করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো লাভ বা মূলধন ফেরত না পেয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
এছাড়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা ইরহধহপব, ইুনরঃ, ইরঃমবঃ, ঞৎঁংঃ ডধষষবঃ, গবঃধগধংশ-এর মতো আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কেন্দুয়ার আশুজিয়া ও দলপা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্য ও গোপন নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।