বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। তিনি খুলনা-২ আসনে (খুলনা সদর-সোনাডাঙ্গা থানা) জামায়াতে ইসলামী মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী। ১৯৮৮ সালে দশম শ্রেণীতে লেখাপড়ার সময় থেকে তিনি অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে সক্রিয় হন। ইতোমধ্যে এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ব্যক্তিগত, পারিবারিক, পেশাগত ও জাতীয় রাজনীতিতে তিনি মেধার সাক্ষর রেখে যাচ্ছেন। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে।

সাহসী ও প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিভাবান আইনজীবী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ১৯৭৪ সালের ২১ নভেম্বর খুলনা মহানগরীর সদর থানাধীন রূপসায় একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো. মুজিবুর রহমান। তিনি ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। আর মাতার নাম হোসনেয়ারা বেগম। তিনি একজন গৃহীনি। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি সকলের বড়। তার স্ত্রীর নাম কামরুন নেছা। তিনি শিপইয়ার্ড স্কুল এন্ড কলেজের বিভাগে শিক্ষকতা করেন। তিনিও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। জনাব হেলাল ংতিন মেয়ের জনক।

শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ১৯৮৯ সালে খুলনা শিপইয়ার্ড স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এস এস সি, ১৯৯১ সালে সুন্দরবন আদর্শ মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি ও ১৯৯৩ সালে একই কলেজ থেকে ¯œাতক এবং ১৯৯৭ সালে খুলনার সরকারি বিএল কলেজ থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০০ সালে তিনি খুলনা সিটি ল কলেজ থেকে এলএলবি পাস করে ২০০২ সালের ২০ অক্টোবর বার কাউন্সিলের সদস্য পদ লাভ করে নিজেকে আইন পেশায় নিয়োজিত করেন। বর্তমানে তিনি খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির একজন সিনিয়র সদস্য।

১০ম শ্রেণিতে পড়াকালীন ১৯৮৮ সালের ১ জানুয়ারি ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। একই বছরের ১৫ জানুয়ারি তিনি কর্মী, ১৯৮৯ সালের ১৮ আগস্ট সার্থী ও ১৯৯০ সালের ৯ অক্টোবর সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এ সময় তিনি শিপইয়ার্ড স্কুল এন্ড কলেজ ইউনিটির সভাপতি, ১৯৮৯ সালে উপশাখা সভাপতি, ১৯৯০ সালে অক্টোবর মাসে খুলনা সদর থানা (পূর্ব) সেক্রেটারি ও সুন্দরবন আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখার সভাপতি, ১৯৯২ সালে খুলনা সদর থানা (পূর্ব) সভাপতি, ১৯৯৫ সালে বিএল কলেজ শাখার সভাপতি, ১৯৯৬ সালে খুলনা মহানগরী ছাত্র আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক, ১৯৯৭ সালে খুলনা মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৯৮-৯৯ সেশনে খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি, ১৯৯৯-২০০০ সেশনে খুলনা মহানগরী সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সাল ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন এবং কর্মী ঘোষণা করা হয়। ২০০২ সাল ৫ জানুয়ারি রুকনিয়াতের বাইয়াত গ্রহণ করেন। ২০০২ সালের ৩১ নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি, ২০০৫ সালে খুলনা সদর থানা সেক্রেটারি, ২০০৯ সালে মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য, ২০১৩ সালে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও ২০২৩ সাল খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন।

এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল আলামীন একাডেমি পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, খুলনা ফ্রেন্ডস অর্গানাইজেসন ফর কো-অপারেশন-এর সভাপতি, ফ্রেন্ডস ল’ ইয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্কুল জীবনে নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ‘জাতীয় ক্রীড়া চক্র’ এর নির্বাচিত কার্যকরী সদস্য, দিশারী সংস্কৃতিক সংসদের সেক্রেটারি ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ছাত্রজীবনে নৌ স্কাউট ও বয়েজ স্কাউটিং সদস্য এবং সফলতার সাথে স্কুল, স্কাউট পেট্রোল লিডার-এর দায়িত্ব পালন। কলেজে রোবার স্কাউট সদস্য ছিলেন। রুহামা সমাজ কল্যাণ ট্রাস্টের সেক্রেটারি ও আল ফারুক সোসাইটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৩ সালের ১৫ জুনের খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে তিনি ৩১ নং ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি কেসিসির শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সাক্ষাৎকার

দৈনিক সংগ্রাম : আপনি কত সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন ?

এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল : ২০০১ সাল ১৩ ফেব্রুয়ারি আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করি।

দৈনিক সংগ্রাম : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ঘোষণার আগে কি অন্য কোনো সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন ?

এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল : না।

দৈনিক সংগ্রাম : আপনি কেন সংসদ সদস্য (এমপি) হতে চান?

এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল : আমি নিজ থেকে প্রার্থী হতে চাইনি বা প্রার্থী হওয়ার জন্য কোন ইচ্ছা পোষন করিনি। আমার দলের সিদ্ধান্তে সংগঠন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পরামর্শ গ্রহণ করে তার ভিত্তিতে আমাকে খুলনা-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য মনোনীত করেছে। আমার লক্ষ্য হলো ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও সু-শাসনের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। যেখানে ন্যায় বিচার, সাম্য, মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এ লক্ষে দূর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব ও জনবল প্রয়োজন।

দৈনিক সংগ্রাম : খুলনা-২ আসন নিয়ে আপনার ভাবনা কি ?

এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল : খুলনা এমনিতে নানান দিক থেকে বঞ্চিত এবং অবহেলিত নগরী। সেই সাথে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং ব্যাপক মাদকের সয়লাব। খুলনাকে আধুনিকায়ন করার জন্য মনোবাসনা পোষন করি। বেকারত্ব দূরিকরণ, পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা, বন্ধ মিল কলকারখানা চালু করণ, রূপসা নদীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শাখা নদী খনন, সুন্দরবনসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ, শিক্ষা উপযোগী নগরী, শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য মেধাবীদের লজিস্টিক সাপোর্ট, নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য খাতের ক্ষেত্রে উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা, পর্যটন কেন্দ্র সুন্দরবনের সাথে যে সব জেলা-উপজেলার সম্পৃক্ত রয়েছে সে সব জেলা-উপজেলার সাথে যোগাযোগের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুন্দরবন রক্ষায় টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রীনল্যান্ড প্রসারিত করার ক্ষেত্রে নজর দেয়া, বিভাগীয় শহর খুলনাকে আধুনিকায়ন ও সৌন্দয্য বর্ধণ, সবকটি শিশুপার্ক আধুনিকায়ন করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা করাসহ ইত্যাদি বিষয়ে জোরালো ভূমিকা পালন করবো ইনশাআল্লাহ।