কক্সবাজার দক্ষিণ সংবাদদাতা : কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালীতে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ জনসাধারণ। সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জেলার গডফাদাররা সদলবলে আত্মগোপনে চলে গেলেও ভারুয়াখালীতে চিহ্নিত কতিপয় দুস্কৃতিকারী সময়ের সাথে সাথে ফের মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে। পূর্বের মতোই নানা অপকর্মে লিপ্ত এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। সরকারী গুরুত্বপূর্ণ খাসজমি জবরদখল, পাহাড় কর্তণ, নদীনালা, চিংড়িঘের দখল, মাদক পাচার সহ বিভিন্ন অপরাধ কর্ম নির্বিঘেœ সংঘটিত করে রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যাক্তির ক্ষয়ক্ষতি সাধন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্তরা হলেন- বানিয়াপাড়ার মো. হোছনের পুত্র সাজ্জাদুল করিম (৩৭), মুজাহের মিয়ার পুত্র নুরুল হুদা মেহেদী (৫৫), আমির হোছাইনের পুত্র মোবারক হোছাইন, আব্দুর রহিমের পুত্র মো. হোছাইন (৫৫), ছৈয়দ উমর (৬৩) এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য কাজল। এরা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। রয়েছে পদ পদবীও। পলাতক আওয়ামীলীগ সরকারের টানা ক্ষমতা চলাকালীন সময়ে এরা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে ক্ষমতার অপব্যবহারের চর্চায় অভ্যস্থ। এই সময়ে এসেও তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যাবতীয় অপকর্ম করে যাচ্ছে এলাকায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন- চক্রটি দলীয় ভাবে পলাতক ও ক্ষমতাচ্যুত হলেও গ্রামেগঞ্জে থেকে যাওয়া সন্ত্রাসীরা পূর্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অদ্যবদি অপকর্ম জারি রেখেছে। বিশেষ করে কাজল ইউপি সদস্য হওয়ায় অভিযুক্ত চক্রটিকে ইন্ধন যুগিয়ে আগের মতোই অপকর্ম করে যাচ্ছে।
সূত্রে জানা যায়- অভিযুক্তরা ভারুয়াখালী বাজার সংলঘœ মসজিদের দক্ষিণ পাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাসজমি জবরদখল করে বেচাবিক্রি, মার্কেট নির্মাণ ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে। অথচ এই জমিটি সেখানে বাজারের আবর্জনা ফেলার জায়গা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। উক্ত সরকারী খাসজমির কিছু অংশ বিক্রির নামে জনৈক আব্দুল কাদেরের নিকট হতে ৪ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করে হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতা সাজ্জাদুল করিম ও তার চক্রের স্যাঙ্গাতরা। আর বাকী অংশ দখল করে সেখানে নির্মাণ করছে ইমারত স্থাপনা।
সাজ্জাদ চক্রের উপদ্রব এবং সরকারী জমি জবরদখল সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমীন সুলতানা জানান- বিষয়টি নিয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য তহশিলদারকে পাঠিয়েছেন। তহশীলদার সরেজমিন ঘুরে এসে প্রতিবেদন দিলেই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উক্ত সরকারী খাসজমি জবরদখল মুক্ত করবেন।