বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন মৌলভীবাজারের বড়লেখার একটি ভোটকেন্দ্রে হামলা, ব্যালট ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান এবং ধানের শীষের এজেন্ট ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৪ নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে বড়লেখা থানায় মামলাটি করেন পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন আহমদ। মামলায় আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
মামলার আসামীরা হলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সাবেক পরিবেশমন্ত্রীর এপিএস কবির আহমদ,
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম হেলাল উদ্দিন, সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জালাল আহমদ, জেলা যুবলীগের সদস্য সালেহ আহমদ জুয়েল, উপজেলা যুবলীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সাবুল আহমদ, হামলার অর্থ দাতা সাইদুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা মস্তফা উদ্দিন বাদল, মিজানুর রহমান টিটু, সাইফুল ইসলাম, আউয়াল আহমদ, জামাল উদ্দিন, ফখরুল ইসলাম, পৌর ছাত্রলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন তিনি ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট হিসাবে গাজিটেকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সাইদুল ইসলাম ও যুবলীগ নেতা সাবুল আহমদের নেতৃত্বে অন্যান্য আসামীরা একজোট হয়ে দা, লাঠি, হকিস্টিক, ছুরি, ডেগার ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রসহ অতর্কিতভাবে গাজিটেকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে নৌকা প্রতীকে সীল মারতে থাকেন। এসময় বাদিসহ ধানের শীষের অন্যান্য এজেন্টরা প্রতিবাদ করলে আসামীরা তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে জখম করে। দুই নম্বর আসামী সাইদুল ইসলাম একহাতে নিজের ব্যবহৃত লাইসেন্সকৃত পিস্তল ঠেকিয়ে ও অন্য হাতে রাম কুড়াল নিয়ে কুপিয়ে তাদেরকে রক্তাক্ত জখম করেন। অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে ভোট কেন্দ্রে আগত সাধারণ ভোটারসহ বিএনপির ভোটার ও কর্মীদেরকে ভোট সেন্টার থেকে বের করে দেয়। এসময় ভোটকেন্দ্রে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ইচ্ছামতো নৌকায় সীল মেরে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করা হয়।
বড়লেখা থানার ওসি মাহবুবুর রহমান মোল্লা শনিবার বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।