কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের গরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে, কালিগঞ্জ টু সাতক্ষীরা মহাসড়কের আশ-পাশে, হাট-বাজার গুলোতে জুড়ে আছে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালাতে মানা হচ্ছে না সরকারি কোন নিয়ম নীতি। পরিবেশ অধিদপ্তরের এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন না নিয়ে এখানে শুরু হয় গলাকাটা ব্যবসা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য মতে উপজেলা জুড়ে ১৬ টি ক্লিনিক এবং ১৭ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এই সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অধিকাংশের নেই নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা এসব ক্লিনিকে এসে রোগী দেখেন। নার্স সংকট থাকায় বেশির ভাগ ক্লিনিকে আয়া ,ওয়ার্ড বয় দিয়ে নার্সের কাজ করানো হয়। ফলে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগীরা বাইরে টানানো সাইনবোর্ডের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে নানান বীড়ম্বনার শিকার হন। ভুল অপচিকিৎসার কারণে সেবা নিতে আসা অসুস্থ রোগীরা লাশ হয়ে ফিরতে হয় বাড়িতে।
অধিকাংশ ক্লিনিকে এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটলেও কোন আইনি পদক্ষেপ না থাকায় পার পেয়ে যায় ক্লিনিক মালিকরা। নাই কেন ভ্যাট ট্যাক্সের যথাযথ কাগজপত্র। যে কারণে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে একটি মোটা অংক টাকার রাজস্ব থেকে । বর্তমান অন্তরবর্তী কালিন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা দায়িত্ব গ্রহণের পর এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা জেলা সদরের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ম্যাজিস্ট্রেট, রর্্যাবের ঝটিকা অভিযানে ২/১ টি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও অধিকাংশ ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে । অধিকাংশ ক্লিনিক মালিক নাম সর্বস্ব একটি পত্রিকার কার্ড পকেটে নিয়ে নিজেদেরকে সাংবাদিক হিসেবে জাহির করে পার পেয়ে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের যথাযথ মনিটরিং না করায় মালিকরা ইচ্ছেমতো যা খুশি তাই করে যাচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক বিভিন্ন ক্লিনিকের ব্যবসায়িক পার্টনার। তারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। উপায়ান্তর না পেয়ে বাধ্য হয়ে ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা। অধিকাংশ ক্লিনিক, বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল খ্যাত গ্রাম্য ডাক্তাররা মোটা অংকের কমিশনের লোভে রোগী ধরার মিশনে ব্যস্ত থাকে।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ বুলবুল কবির দৈনিক সংগ্রামকে জানান, ডাক্তার হযরত আলী ক্লিনিকের বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। বাকি অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষয়ে সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালামের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান জেলা জুড়ে অনুমোদন বিহীন ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট জমা দেওয়া হয়েছে উনি এটার প্রশাসনিক ভাবে ব্যবস্থা নিবেন। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী উপজেলা বাসী।