সুহানা রহমান সুকন্যা (১৬) এবং মিনহাজুল আবেদিন জিসান (১৪) বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিশু অধিকারভিত্তিক সম্মাননা ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ২০২৫’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। এটি বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহুর্ত, কারণ একই পরিবারের দুই ভাই বোনের একসঙ্গে এই মনোনয়ন পাওয়া এক বিরল ঘটনা। সুহানা আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো এই সম্মানের জন্য বিবেচিত হয়েছেন। তিনি ‘টক হোপ’ নামের একটি যুব নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের প্রধান সমন্বয়ক, যা মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, আত্মহত্যা প্রতিরোধ এবং মানসিক সহায়তা সেবার সম্প্রসারণে কাজ করছে।
সুহানার এই উদ্যোগের মূল প্রেরণা আসে এক সেচ্ছাসেবকের আত্মহত্যায় হারানোর গভীর শোক থেকে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সুহানা প্রতিজ্ঞা করেন যেন কেউ আর মানসিক স্বাস্থ্য এবং আত্মহত্যার প্রবণতাকে অবহেলা না করে।
সুহানার ছোট ভাই মিনহাজুল আবেদিন জিসান মাত্র ১৩ বছর বয়সেই ‘শিশু অধিকার সুরক্ষা ও জেন্ডার সমতা’ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন, যা শিশু ও নারীর সুরক্ষা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে।
জিসান বলেন, ‘সত্যিকার পরিবর্তন তখনই আসে, যখন আমরা একে অপরের অধিকার রক্ষা করি এবং দুর্বলদের পাশে দাঁড়াই। প্রতিটি শিশুই স্বপ্ন দেখার ও নিরাপদে বেড়ে ওঠার অধিকার রাখে’।
সুহানা ও জিসানের বাবা মুহাম্মদ শোয়েবুর রহমান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এটি শুধু আমাদের পরিবারের নয়, পুরো বাংলাদেশের গর্বের বিষয়। আমাদের সন্তানরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠছে- এর চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কিছু হতে পারে না’। তাদের মা খালেদা সুলতানা বলেন, ‘দুই সন্তানের একসঙ্গে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া এক অবর্ণনীয় আনন্দ। একজন মা হিসেবে এর চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কিছু নেই’।
টপ হোপের প্রতিষ্ঠাতা সাদ্দাম হোসেন রনি বলেন, অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪৫,০০০-এরও অধিক বেশি মানুষ সরাসরি সহায়তা পেয়েছেন এবং ডিজিটাল সচেতনতা ক্যাম্পেইন ও সোশ্যাল মিডিয়া উদ্যোগে প্রায় ১ লক্ষাধিক তরুণ-তরুণী যুক্ত হয়েছেন। দেশের ২০টি জেলায় মানসিক স্বাস্থ্য রেসপন্স সেল এবং ৫০০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মশালা পরিচালনার মাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় টক হোপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
টক হোপ বর্তমানে দেশের প্রথম ২৪ ঘন্টাব্যাপী বিনামূল্যের মানসিক সহায়তা কল সেন্টার (হেল্পলাইন: ০৯৬৩-৮৮৮১৮৮৮) পরিচালনা করছে, যেখানে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা মানসিক সংকটে থাকা মানুষকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করছেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।