মনিরামপুর সংবাদদাতা : যশোর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা মনিরামপুর। অথচ এখানকার প্রাণকেন্দ্র-কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে দোলখোলা মোড় পর্যন্ত সড়কপথ এখন এক স্থায়ী যানজটের রূপ নিয়েছে। প্রতিনিয়ত এই রাস্তায় চলাচল করা মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তির মুখে। বিশেষ করে তীব্র গরমে এই যানজট যেন মানুষের জন্য একপ্রকার বিভীষিকায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়কপথ ব্যবহার করে স্কুল, কলেজ, অফিস বা প্রয়োজনীয় কাজে বের হন। কিন্তু অসহনীয় যানজটের কারণে কেউ সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে, অনেক চাকরিজীবী সময়মতো অফিসে যেতে পারছেন না, এমনকি ইমারজেন্সি রোগীরাও এই যানজটে আটকে পড়ে বিপদে পড়ছেন। এই যানজটের অন্যতম কারণ হলোÑসড়কের উপর দোকান বসানো। মনিরামপুর বাজারের বেশিরভাগ দোকান রাস্তার একেবারে গা ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে। অনেকে আবার রাস্তার ওপরই মালামাল রেখে দেন, ফলে পথচারীদের হাঁটার মতো জায়গাও অবশিষ্ট থাকে না। রাস্তার যে অংশটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা, সেটিও দখল করে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত হতাশাজনক। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ী মোটা অংকের টাকা দিয়ে সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি পেয়েছেন। এ বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। নেই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত ব্যবস্থাও।
এই যানজট শুধু সময় ও শ্রমের অপচয় ঘটাচ্ছে না, বরং মানুষের সহনশীলতার সীমাকেও অতিক্রম করে ফেলেছে। গরমে রাস্তায় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা আটকে থাকা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। আমরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাই— মনিরামপুর বাজারে চলমান ভয়াবহ যানজট নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে, এবং মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন তীব্রতর হবে।